চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে লেভেলক্রসিংয়ে মাইক্রোবাসকে ট্রেনের ধাক্কায় আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাসমির হাসানের (২০) মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৩ জনে। 

একদিন আগে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আয়াতুল ইসলাম আয়াতের মৃত্যু হয়েছিল। তাসমির এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. হারুন অর রশীদ সমকালকে বলেন, 'আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তাসমির হাসানকে রাত ১০টার দিকে আমরা মৃত ঘোষণা করেছি। ভর্তির পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। দুর্ঘটনায় তার ঘাড় ও মাথা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে সুস্থ করে তুলতে আমরা সবোর্চ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাকে বাঁচানো গেল না। বেঁচে থাকলেও অনেকটা প্যারালাইসড এর মতো বাঁচতে হতো তাসমিরকে।' 

এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আয়াতুল ইসলাম মারা যান। তিনিও এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

লেভেলক্রসিংয়ে মাইক্রোবাসকে ট্রেনের ধাক্কায় আহতদের মধ্যে তাসমির ও আয়াতকেই কেবল আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে তারা দুজনই মারা গেলেন। 

গত ২৯ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার খন্দকিয়া গ্রামের আরএনজে কোচিং সেন্টার থেকে মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনায় চালক-হেলপারসহ বেড়াতে যান ১৮ জনের একটি দল। ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা ১১ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয় সাতজন। তাদেরকে ঘটনার দিন চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির একদিনের মাথায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগ থেকে তাসমিরকে আইসিইউতে হস্তান্তর করেন চিকিৎসকরা। তবে গত এক সপ্তাহেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি।