রাজধানীর উত্তরায় ভাড়া বাসা থেকে হোলগার কাউসম্যান (৫৫) নামে এক জার্মানি নাগরিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

পুলিশের ধারণা, তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর ঘর থেকে ওষুধের খোসা এবং একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটে তিনি হতাশার কথা লিখে গেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হোলগার কাউসম্যান ২০১৪ সালে বাংলাদেশে আসেন। উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের ২/বি সড়কের ১০ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন তিনি। ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে আসা বিদেশিদের গাইডের কাজ করতেন।

জানা গেছে, তাঁর বাসায় জুয়েল নামে এক তরুণ তাঁকে দেখভাল করেন। গত বৃহস্পতিবার জুয়েল শ্রীমঙ্গলে নিজের বাড়িতে বেড়াতে যান। গত শনিবার বিকেলে হোলগার কাউসম্যানের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। এরপর রোববার সকালে জুয়েল উত্তরার বাসায় এসে বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখেন-মৃত অবস্থায় হোলগার খাটে পড়ে আছেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াছিন গাজী সমকালকে বলেন, ওই বাসায় জার্মানি নাগরিকের লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। ইংরেজিতে তাঁর হতাশার কথা লেখা আছে। তিনি লিখেছেন-বুড়ো হয়ে তিনি মরতে চান না। কারো উপর নির্ভরশীল হতে চান না। পৃথিবী থেকে একদিন যেতেই হবে। তাই তিনি চলে যাচ্ছেন। পৃথিবীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।

ইয়াছিন গাজী বলেন, জার্মানি নাগরিকের ঘরে ওষুধের খালি খোসা পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে- অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর ঘরের ফ্যানে একটি রশি ঝুলতেও দেখা গেছে। ওই রশিতে হয়ত গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে।