বর্ষাকালে কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ইঞ্জিনচালিত নৌকা। ডিজেলের নজিরবিহীন দাম বৃদ্ধির কারণে নৌকা ভাড়া বেড়ে গেছে হাওরে। এতে সমস্যায় পড়েছেন হাওরের স্বল্প আয়ের মানুষ। শঙ্কা জেগেছে পর্যটনে প্রভাব পড়ার। 

হাওরে ভ্রমণকারীরা নৌকা ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হাওরের অবারিত সৌন্দর্য উপভোগ করতে নৌকা ভাড়ার কথা মাথায় রেখে বাজেট করতে হচ্ছে। গতকাল রোববার পুরাতন ঢাকার ধোলাইখাল থেকে আবদুল্লাহসহ তার দুই বন্ধু এসেছেন হাওর দেখতে। বালিখলা থেকে ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকায় রিজার্ভ ভাড়া ছিল ৮০০ টাকা। এখন ১২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। 

নিকলী উপজেলার বেরিবাঁধ থেকে ৯ জনের একটি দল ছাতিরচরের হিজলবাগান দেখতে যান। গত ২৪ জুলাই তাদের নৌকাভাড়া দিতে হয়েছিল এক হাজার ৫০০ টাকা। গতকাল রোববার এই ছাতিরচরে যেতে রিজার্ভ নৌকা ভাড়া দিতে হয়েছে দুই হাজার টাকা। 


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চামড়াঘাট থেকে হাওরের ২২টি উপজেলায় যাতায়াতকারী ট্রলারগুলোতে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে জনপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চামড়াঘাট থেকে ট্রলারে ইটনা যেতে প্রতিজন ৭০ টাকা ভাড়া দিতে হতো। গত শনিবার থেকে ৮০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। চামড়াঘাট থেকে ভাড়া ছিল প্রতিজন ৫০ টাকা এখন ভাড়া ৭০ টাকা। ফলে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। 

ইটনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুল হাসান বলেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিজেলচালিত সবকিছুর দামই বেড়ে যাবে। এমনকি কৃষিকাজে সেচ, ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ অন্যান্য যানের ভাড়াও বেড়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। এমন অবস্থায় হাওরে পর্যটক কমে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।