লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের চার বিচারপ্রার্থীকে মারধর করেছেন আইনজীবীরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

শত্রুতার জেরে আইনজীবী সৈয়দ ফখরুল আলম নাহিদসহ তাঁর ৮-১০ জন সহকর্মী এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন হামলায় আহতরা।

তাঁরা হলেন- মোহাম্মদ উল্লাহ (৬০), তাঁর স্ত্রী আফরোজা বেগম (৫০), মেয়ে মাহিয়া আক্তার (২২) ও ছেলে আব্বাস হোসেন (২৮)। তাঁরা রামগতি উপজেলার পশ্চিম চর কলাকোপা গ্রামের বাসিন্দা। আদালত পুলিশ তাঁদেরকে উদ্ধার করে এজলাসে নিয়ে যায়।

আহত মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, তাঁদের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টের আইনজীবী নাহিদদের জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। নাহিদদের করা একটি মামলায় তাঁরা আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। এ সময় নাহিদসহ আইনজীবীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে তিনি, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ চারজন আহত হন। এ হামলার বিচার দাবি করেছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইনজীবীরা ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাঁরা বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে মনে করেন আদালতে উপস্থিত শতাধিক বিচারপ্রার্থী।

তবে হামলা ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইনজীবী নাহিদ। নাহিদ জানান, তিনি জেলা কৃষক দলের সাবেক সদস্য সচিব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোহাম্মদ শামছুল আলমের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন মোহাম্মদ উল্লাহসহ তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা। জানা গেছে, চলতি বছর ১১ জুন রামগতির চর কলাকোপা গ্রামে জমির বিরোধ নিয়ে সালিশি বৈঠকে প্রতিপক্ষের লোকজন আইনজীবী নাহিদকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় তিনি মামলা করেন। মোহাম্মদ উল্লাহরা সেই মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন।

লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির হাওলাদার বলেন, হামলার ঘটনা শুনেছেন। এ ঘটনায় তিনিও মর্মাহত।