বরিশালের বানরীপাড়া উপজেলার মসজিদবাড়ি-সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে ঢাকাগামী লঞ্চ মর্নিং সান-৯ লঞ্চের সঙ্গে বালুভর্তি বাল্কহেডের সংঘর্ষ হলে বাল্কহেডটি ডুবে যায়। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাল্কহেডের চালকসহ দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ আলম এবং মর্নিংসান-৯ লঞ্চের কেরানী আব্দুল আলীম মোবাইলে  সমকালকে দুর্ঘটনা ও নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ রিপোর্ট লেখার সময় রাত ১২টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

উজিরপুর থানা পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেল ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে পিরোজপরের ভান্ডারিয়া থেকে ২০০ যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসে মর্নিং সান-৯ লঞ্চটি। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উজিরপুর ও বানরীপাড়া উপজেলার সিমান্তবর্তী  মসজিদবাড়ি নামক স্থানে পৌঁছলে বালুভর্তি বাল্কহেড কার্গো ইফতি-রিজভীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

বাল্কহেডটি নদীর একপাশ থেকে অপরপাশে ক্রস করার সময় লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সংঘর্ষ হয়। এতে বালুভর্তি বাল্কহেডটি ডুবে যায়। লঞ্চের আংশিক ক্ষতি হলেও যাত্রীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

দুর্ঘটনাকবলিত বাল্কহেডের মালিক স্বরূপকাঠির হাবুল্লাহ কাজী জানান, ডুবে যাওয়া বাল্কহেডের চালক পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার নান্দুহার গ্রামের বাদশা মিয়ার পুত্র মিলন মিয়া (৪০) ও সাইজুদ্দিনের পুত্র আবুল কালাম (৪৫) নিখোঁজ রয়েছেন।

লঞ্চের একাধিক যাত্রী জানান, বাল্কহেডটি লঞ্চের সঙ্গে বিকট শব্দে ধাক্কা খেয়ে সংঘর্ষ হয়। এ সময় যাত্রীরা আতংকে হুড়াহুড়ি ও চিৎকার শুরু করেন। পরে লঞ্চটি উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটে অবস্থান নেন। এ সময় যাত্রীরা অনেকেই অন্য লঞ্চ কিংবা ট্রলারে চলে যায়। তবে এখনো শতাধিক যাত্রী চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটে অবস্থান করছেন।

উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মমিন উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, লঞ্চ যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাল্কহেডের চালকসহ দুইজন নিখোঁজ থাকলেও লঞ্চ যাত্রীরা নিরাপদে আছেন।