দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বিতর্কিত ও অসামাজিক কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত মোজাম বিনোদন পার্ক থেকে সবুজ মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে উপজেলার বুলাকীপুর কালুপাড়ায় মোজাম্মেল হকের আম বাগানের ভিতরে ওই পার্কের একটি ঘর থেকে তার গলাকাটা মরদেহ লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সবুজ মিয়া পাশ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রায়ভংগী গ্রামের মৃত শরিফ উদ্দিনের ছেলে। সবুজ ১০-১৫ দিন যাবত পার্কটিতে দিনের বেলা মুদিখানার দোকানদারি করত এবং রাতে পার্কের নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করত।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ক্রাইম সিন দলের সদস্যরা জানান, তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও তার বুক ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই পার্কটিকে নারীদেরকে দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ করানো হতো। এসব অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য পার্কের ভেতর বেশ কয়েকটি কুঠুরি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

ঘোড়াঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম বলেন, পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বলেন, সবুজ ওই আম বাগানের একজন দোকানদার ছিলেন। রাতে ওই বাগানের একটি ঘরে থাকতেন। সকালে স্থানীয়রা তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গত এপ্রিলে পার্কটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে দুই নারীসহ চারকজনকে আটক করা হয়। একইসঙ্গে পার্কের মালিক মোজাম্মেল হক মোজাম ও তার জামাতাকে আটক করে পুলিশ। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মালিক ও তার জামাতাকে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই মাসে পৃথক আরেকটি অভিযানে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ এক নারীকে আটক করেছিল পুলিশ।