পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গেছে মাছ ধরার তিনটি ট্রলার। এছাড়া অর্ধশত জেলেসহ আরও পাঁচ ট্রলারের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার ভোররাতে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে গভীর সমুদ্রে ওই তিন ট্রলার ডুবে যায়। সেগুলো হলো- এফবি আনোয়ার, এফবি সুজন, এফবি নিশাদ। ওই তিন ট্রলারের ১১ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা হলেন- সিরাজুল ইসলাম, মো. সিদ্দিক প্যাদা, ফরহাদ হোসেন, সোহেল রানা, ইয়াসিন আহমেদ, ইয়াকুব হোসেন, মো. আলকাছ মিয়া, আমজাদ হোসেন, মো. শরীফ উদ্দিন, শরীফ মাহমুদ ও জাফর আহমেদ। 

আজ বুধবার কুয়াকাটার আলীপুর মৎস্য বন্দর আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনসার উদ্দিন মোল্লা সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এদিকে গভীর সমুদ্র উত্তাল থাকায় মাছ ধরার অন্তত পাঁচ হাজার ট্রলার উপকূলের কুয়াকাটার আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর, রাঙ্গাবালীর উপকূলীয় চরমোন্তাজ ও মৌডুবি এলাকার মৎস্য কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। এসব ট্রলার এখন নিরাপদে আশ্রয়ে রয়েছে।

দুর্ঘটনার কবলে পড়া ট্রলারের মাঝি আনোয়ার হোসেন খান জানান, ভোররাতে আকস্মিক ঝড় হলে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। এ সময় ঝড়ের কবলে দুটি ট্রলার ডুবে যায়। সাগর উত্তাল থাকায় ট্রলার চালিয়ে কিনারে আসছিল তারা। আসার পথেই ঢেউয়ের তোড়ে উল্টে গিয়ে ৩টি ট্রলার ডুবে যায়। এতে দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া আরও পাঁচটি ট্রলারের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এসব ট্রলারে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক জেলে-মাঝি রয়েছেন। 

ডুবে যাওয়া ট্রলারের মাঝি মো. শামীম জানান, রাতে উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ১৫ জেলেসহ তাদের ট্রলার উল্টে যায়। এ সময় অন্য একটি ট্রলারের সাহায্যে তাকেসহ ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়। পরে গতকাল বুধবার দুপুরে সুন্দরবন এলাকা থেকে আরও দুই জেলের সন্ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে ৯ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকৃত জেলেরা মহিপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কুয়াকাটার আলীপুর মৎস্য বন্দর আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, তিনটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে এবং দুই জেলে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তবে আরও পাঁচটি ট্রলারের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। এসব ট্রলার ডুবে গেছে, নাকি মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেছে তা এখনো সঠিক বলা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি ওই পাঁচটি ট্রলারের সন্ধান করার।   

এ ব্যাপারে মহিপুর থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে এবং এ ঘটনায় থানায় জিডিও হয়েছে। বিষয়টি কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।