শীত মৌসুম আসছে। সে সময় ঘর গরম রাখতে গ্যাসের চাহিদা থাকে চরমে। এ সময় এ জ্বালানির দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জার্মানির হাজার হাজার পরিবার। আর এ বাড়তি মূল্য বহন করার সামর্থ্য নিয়ে তারাই সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। তাদের ধারণা, বাড়তি মূল্য বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।

বার্লিন টেনান্ট’স অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ওইবকে ওয়ার্নার তুর্কিয়ের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুকে বলেন, আমাদের সংগঠনের সদস্যরা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে তাদের প্রবল উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

‘জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষ হতাশ হয়ে পড়ছেন’, যোগ করেন তিনি।

ওয়ার্নার বলেন, বিশেষ করে তারাই বেশি হতাশ হচ্ছেন যাদের আয় অত্যন্ত কম। তারা আমাদের কল করছেন এবং জিজ্ঞাসা করছেন জ্বালানি সাশ্রয় করতে তাদের করণীয় কি এ বিষয়ে। যেন তারা ক্রমবর্ধমান খরচ মেটাতে সক্ষম হন। এটি এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা।

বার্লিন টেনান্টস অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, আমরা মানুষকে বলতে পারি না যে, আপনারা অর্থ জমিয়ে রাখুন যদি তাদের কাছে এখনই কোনো অর্থ না থাকে। বার্লিনে এখনই অনেক পরিবার সংকটের মধ্যে রয়েছে। কেননা এখানে বাড়ি ভাড়া বড়ছে। সতুরাং পরিস্থিতি খুবই জটিল।

ভোক্তা মূল্য তুলনা করে এমন ওয়েবসাইট ভেরিভক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টের তুলনায় এ বছর গ্যাসের মূল্য বেড়েছে গড়ে ১৮৪ শতাংশ।

ওয়েবসাইটির তথ্যমতে, কিছু কিছু বেসরকারি আবাসনে জ্বালানির খরচ বেড়ে হয়েছে প্রায় চারগুণ।

গত বছর জার্মানির একটি পরিবারের জ্বালানির পেছনে খরচ ছিল এক হাজার ২৫০ ইউরো (এক হাজার ২৭৬ ডলার)। আর একই পরিমাণ গ্যাসের জন্য এখন বছরে পরিবারগুলোকে খরচ করতে হচ্ছে তিন হাজার ৫০০ ইউরো (তিন হাজার ৫৭৪ ডলার)।

ছবি: ডিডব্লিউ

ওয়ার্নার বলেন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং এর পেছনে অর্থ ব্যয় কমাতে বার্লিন টেনান্টস অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে পরামর্শসহ একটি তালিকা তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু পরামর্শই দিতে পারব। যদি কিছু অর্থ হাতে থাকে তবে তা রক্ষা করুন। কেননা, শীতে জ্বালানির জন্য এক মাসের খরচ দুই মাসের সমান হবে। কিন্তু জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারেন দীর্ঘক্ষণ শাওয়ার না নিয়ে, ঠাণ্ডা পানিতে হাত ধোয়া এবং ঘর গরম করার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার মাধ্যমে।

জার্মানির সরকার একটি আইন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে শীতের সময় ভাড়াটিয়াদের ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদের সেন্ট্রাল হিটিং সিস্টেমে তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামানোর অনুমতি দেবে। 

তবে, মানুষের স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে এতে অদল-বদল করা যাবে।

এ পরিস্থিতিতে পদক্ষেপ নিতে ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য ওয়ার্নার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, মানুষের জন্য সরকার কিছুটা ভতুর্কি দিতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। এটি এমন করতে হবে যেন এ সুবিধা নিতে হলে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।