খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ড্রেন পরিষ্কার নিয়ে সন্তুষ্ট নন ৪১ শতাংশ নগরবাসী। তাদের প্রধান অভিযোগ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। সেকেন্ডারি পয়েন্ট থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ নিয়ে অসন্তুষ্ট ৭৮ শতাংশ মানুষ।

কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের ওপর পরিচালিত একটি সামাজিক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের উপস্থিতিতে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

গত ২২ মে থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত কেসিসির ৩১টি ওয়ার্ডের ৩৭২ জন ব্যক্তির মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়। নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে এ কাজে সহযোগিতা করে এশিয়া ফাউন্ডেশন।

জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ নাগরিক বলেছেন, নগরীর রাস্তা নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া হয়। কেসিসির মশক নিধন কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৮৪ শতাংশ নাগরিক। ময়লা-আবর্জনা অপসারণ নিয়ে নাগরিকরা জানিয়েছেন, কেসিসির গাড়ি অনিয়মিত, এজন্য মাঝে মাঝে ময়লার স্তুপ জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়।

সভায় সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, খুলনা নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সফল হবে না। নগরীর অনেক হোল্ডিং মালিক গৃহস্থালি বর্জ্য ড্রেন, খাল ও রাস্তার পাশে ফেলেন। এতে ড্রেন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এটা বন্ধ করলে অনেক সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, খুলনা মহানগরীর মানুষের পৌর করের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। এই কাজে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে। সবাই নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করতে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন।

নাগরিক ফোরাম খুলনা মহানগরীর আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম খোকনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেসিসির কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী এবং এমডি মাহফুজুর রহমান লিটন। স্বাগত বক্তব্য দেন নাগরিক ফোরামের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সেলিনা আক্তার পিয়া।

এতে আরও বক্তব্য দেন কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, সহকারী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নূরুন্নাহার এ্যানি, নাগরিক ফোরাম নেতা হাসান হাফিজুর রহমান, সাবির খান, সৈয়দ আলী হাফিজ, সাদেকুর রহমান সবুজ ও সৈয়দ আলী হাকিম প্রমুখ।