প্রবাসী স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপ হিসেবে টাকা হাতিয়ে নিতে নিজের শিশু কন্যাকে অপহরণ করেন এক গৃহবধু। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী ওই গৃহবধু ও তার মাকে আটক করে। এ ঘটনায় কেউ মামলা না করায় পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় অভিযুক্তদের।

বুধবার বিকেলে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাট এলাকায় অপহরণের ঘটনাটি ঘটে। রাতেই পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে।

জানা গেছে,গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাট এলাকায় প্রবাসী উকিল আহম্মেদের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শিশু কন্যা মঞ্জিলা বেগম স্থানীয় সার্ক মডেল স্কুলের ছাত্রী।  বুধবার সকালে সে স্কুলে যায়। বিকেল তিনটায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে জনৈক সংবাদ কর্মী ফোনে জানান, দুর্গাহাটা ইউনিয়নের সার্ক মডেল স্কুলের পঞ্চম শ্রেনির মঞ্জিলা নামের এক ছাত্রীকে কে বা কারা কৌশলে স্কুল থেকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। এই সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে গাবতলী মডেল থানার এসআই হাফিজ আহম্মেদ ফোর্স নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারে নেমে পড়েন। পুলিশের ওই কর্মকর্তা স্কুলের শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সেখানকার ভিডিও ফুটেজ চেক করে দেখেন বিকেলে স্কুল থেকে শিশু মঞ্জিলা বাড়ির দিকে না গিয়ে উল্টোদিকে যাচ্ছে এবং তার পিছনে বোরকা পরিহিত একজন নারী যাচ্ছে। এরপর মঞ্জিলা একটি ইজিবাইকে ওঠে পরে। যে ইজিবাইকে মঞ্জিলা ওঠে সেই ইজিবাইকে বোরকা পড়া নারীও ওঠেন। পুলিশ ওই ইজিবাইক চালককে শনাক্ত করেন।

পরে ওই ইজিবাইক চালক পুলিশকে জানান, মঞ্জিলাকে পাশ্ববর্তী সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি পর্যন্ত পৌছে দিয়েছেন তিনি। সেখানে ফুলবাড়ি বাজারে মঞ্জিলার নানী নাজমা বেগম অপেক্ষায় ছিল মঞ্জিলার। ওই বোরকাপড়া নারী ওই শিশুর মা ফারজানা বেগম। সেখান থেকে মঞ্জিলার মা ফারজানা তার মেয়েকে শেরপুর উপজেলার উলিপুর গ্রামে নানি নাজমার বোনের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সেখানে রেখে গাবতলী থানায় যান। থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান, তার মেয়েকে অপহরন করা হয়েছে এবং অপহরনকারীরা তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। মা ফারজানার মুখে এমন কথা শুনে পুলিশ তাকে চ্যালেঞ্জ করে জিজ্ঞাবাদ করতে থাকে। একপর্যায়ে ফারজানা স্বীকার করেন তার স্বামী উকিল আহমেদ দীর্ঘদিন ইরাক প্রবাসী। উকিল আহমেদ প্রবাস থেকে বিভিন্ন সময় টাকা পাঠাতেন। সেই টাকার মধ্যে ইতি পূর্বে দেড় লাখ টাকা হারিয়ে গেছে বলে তিনি স্বামীকে জানান। স্বামী তার কথা বিশ্বাস করেন।  ৩-৪ দিন আগে পুনরায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা হারিয়ে গেছে মর্মে গল্প তৈরি করেন ফারজানা। এভাবে তিন লাখ টাকা আত্মসাত করেন ওই গৃহবধু। পরে মেয়েকে শিখিয়ে দেন অপহরণের নাটক করতে। পরে পুলিশ ফারজানা ও ফারজানার মা নাজমা বেগমকে আটক করে। শিশুটিকে থানায় হেফাজতে রাখা হয়। তবে এ বিষয়ে কেউ বাদী না হওয়ায় পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেন।

গাবতলী মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন,নিজের মেয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে টাকা আত্মসাত করার পরিকল্পনা করেন ফারজানা বেগম নামে ওই নারী। এ ঘটনায় কেউ মামলা বা অভিযোগ না দেয়ায় তাদেরকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। শিশুটিকে তার মায়ের হেফাজতেই দেয়া হয়েছে।