শেরপুরে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে (১৩) অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে এক ডাকাত সর্দারকে ৪৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া পৃথক দুইটি ধারায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ের আরও নয় মাসের সাজাভোগের আদেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ওই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ডাকাত সর্দারের নাম টুটুল মিয়া (২৮। তিনি জেলার সদর উপজেলার রৌহা নাওভাঙা গ্রামের দিলহাস মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ-অপহরণ ছাড়াও বেশ কয়েকটি হত্যা, ধর্ষণ ও ডাকাতি মামলা রয়েছে।

মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু বলেন, ভয়ঙ্কর ডাকাত সর্দার টুটুল ২০২০ সালের  ১২ মে ভীমগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে নাওভাঙ্গা জোড়া ব্রীজের উপর থেকে অপহরণ করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। মেয়েটি এদিন রঘুনাথপুর সোলারচর নানার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিল। পরে ডাকাত সর্দার মেয়েটিকে দুইদিন আটক রেখে ধর্ষণ করে। এলাকার লোকজন বিষয়টি জানলেও ভয়ে কেউ এ ঘটনার প্রতিবাদ করেনি।

 এ ঘটনার তিনদিন পর কিশোরীর বাবা শেরপুর সদর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং টুটুলকে আটক করে। পরে সদর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা হয়। কিন্তু ঘটনার কয়েকমাস পর কৌশলে ডাকাত টুটুল জামিন নিয়ে পালিয়ে যায়।  মামলার তদন্ত শেষ করে সদর থানার তৎকালীন এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর টুটুলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। আদালত তা গ্রহণ করে এবং বিচার শুরু হয়।  মামলায় ভিকটিম, চিকিৎসক ও বিচারকসহ ৭জন স্বাক্ষ্য দেন। স্বাক্ষ্য প্রমাণে আসামি টুটুলের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়  উল্লিখিত রায় ঘোষণা করেন বিচারক।