প্রেমের ফাঁদ পেতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার এক কিশোরীকে ভারতে পাচার করেছেন কথিত প্রেমিক তিলক (২০)। ভারতে আটক ওই কিশোরী দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

কথিত প্রেমিক তিলক হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্য গড্ডিমারী গ্রামের ধনঞ্জয়ের ছেলে।

জান যায়, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজ যাওয়ার পথে ওই কিশোরী নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি মেয়েটির বড় ভাই কামরুজ্জামান লুলু বাদী হয়ে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে হাতীবান্ধা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ ঘটনায় তিলকের এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চার মিনিট তেত্রিশ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন, প্রেমের ফাঁদ পেতে তাকে বাড়ি থেকে বের করে ঢাকায় নিয়ে আসেন তিলক ও তার বন্ধুরা। পরে তিলক ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ে করেন। ঢাকায় কিছুদিন থাকার পর ভারতে পাচার করা হয় তাকে।

ভারতের শিলিগুড়িতে তাকে আটকে রাখা হয়েছে জানিয়ে ওই কিশোরী আরও বলেন, তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে অপহরণকারী চক্রটি। জোর করে তাকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। ভিডিওতে ওই কিশোরী ‘আমি বাঁচতে চাই, পড়াশোনা করতে চাই’ এমন আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য কামনা করেন।

কিশোরীর বড় ভাই কামরুজ্জামান লুলু সমকালকে বলেন, বোনের পাঠানো এই ভিডিওটি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভারতের শিলিগুড়ি পুলিশ তার বোন ও কথিত প্রেমিক তিলককে আটক করেছে বলে তিনি শুনেছেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে জানিয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার একজন জামিনে রয়েছেন।