মেয়ের খুনিদের বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন আয়েশা আক্তার নামে এক গৃহবধূ। বছরখানেক আগে তাঁর মেয়ে সুমি আক্তারকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। আয়েশা লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স এলাকার বাসিন্দা। আসামিদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের ঝাউডগী এলাকায়।

আয়েশা জানান, স্বামী-সন্তানসহ ছয়জনের সুখের সংসার ছিল তাঁর। দুই মেয়ের মধ্যে সুমি বড়। তাঁর পছন্দেই দুই বছর আগে বিয়ে দেওয়া হয় ঝাউডগী এলাকার খোরশেদ আলমের সঙ্গে। পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে সুমির জীবন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ধাপে ধাপে জামাতার হাতে প্রায় ৯ লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। এরপরও যৌতুক দাবি করে খোরশেদ ও তার বাবা-মা। যৌতুক না পেয়ে ২০২১ সালের ১০ আগস্ট সকালে অন্তঃসত্ত্বা সুমিকে মারধর করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়ি চলে আসেন সুমি। দু'দিন পর খোরশেদ মোবাইল ফোনে স্ত্রীকে জানায়, তার কাছে ফিরে না গেলে দ্বিতীয় বিয়ে করবে। সংসার টেকানোর কথা ভেবে ছোট বোন রুমি আক্তারকে (১৩) নিয়ে স্বামীর বাড়ি ফিরে যান সুমি।

ওই রাতেই ঘুমন্ত সুমির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় সুমির চিৎকারে পাশের কক্ষ থেকে ছুটে যায় রুমি। তার মাধ্যমে মুঠোফোনে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সুমিকে উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্বজনরা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে সেখানে একটি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করেন তিনি। এর এক দিন পর ২৩ আগস্ট মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সুমি।

আয়েশা আক্তার বলেন, ছোট মেয়ের কাছে প্রকৃত ঘটনা জানার পর তিনি বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর আদালতে হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই। মেয়ের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির
দাবি তাঁর।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে খোরশেদ আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ করেননি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক মামুন হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তকাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন তিনি। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।