কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেনকে মারধরের প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ উল আহসান।

তিনি বলেন, আমাদের কর্মবিরতি চালু থাকলেও রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চালু আছে।  

এর আগে বৃহস্পতিবার সংগঠনটির সভাপতি ডা. মহিউদ্দিন জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ উল আহসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় ছাত্র কর্তৃক গত ৮ আগস্ট রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিনা কারণে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেনের উপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখনো অপরাধী শনাক্ত না হওয়ায় এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে না পারার প্রতিবাদে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭-৮ জন শিক্ষার্থীর হামলার শিকার হন ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় জিডি করেছেন সাজ্জাদ।

ওই দিন রাত নয়টায় ডা. সাজ্জাদ শহীদ মিনারে বসেছিলেন। এমন সময় ছয় থেকে সাত জনের একটি দল তার কাছে এসে আইডি কার্ড দেখতে চায়। কিন্তু তিনি আইডি মেডিকেলে রেখে আসার কথা জানালে তাকে ব্যাপক মারধর শুরু করে। কানে থাপ্পর দেওয়ায় কানের পর্দার আশেপাশে রক্তক্ষরণ হয়। ডান পাশের কানে কম শুনতে পাচ্ছেন ভুক্তভোগী সাজ্জাদ। নাকে আঘাত লাগার কারণেও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। মারধরকারীদের সবার গায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোওয়ালা টি-শার্ট ছিল বলে জানিয়েছিলেন সাজ্জাদ।

মারধরের পরদিন ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এর প্রতিবোদে মঙ্গলবার দুপুরে দোষীদের শনাক্ত করে বিচারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার পরও দোষীদের কেউ শনাক্ত না হওয়ায় কর্মবিরতিতে যান তারা।