বৈশ্বিক মন্দায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে, ‘আমরা সুখে আছি, বেহেশতে আছি’- এমন মন্তব্যের কারণে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তার এই মন্তব্য শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বিভিন্ন মহলে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে বিএনপির একাধিক নেতাও সমালোচনা করেছেন। শনিবার নিজের ওই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ দিন দুপুরে সিলেটে জেলা পরিষদের আয়োজনে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ড. মোমেন বলেন, ‘‘বেহেশতের কথা আমি বলেছি, কম্পারেটিভ টু আদার কান্ট্রি। অন্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের মানুষ ভালো আছে বোঝাতে গিয়ে বেহেশতে আছে বলেছি। আর আপনারা সব জায়গায় ‘বেহেশত’ বলেছেন... মানে আমার বক্তব্য টুইস্ট করা হয়েছে। আপনারা বলেননি, আমাদের মূল্যস্ফীতি অন্য দেশের তুলনায় কম।’’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি বলেছি, অন্য দেশের তুলনায় আমরা অনেক ভালো আছি এবং তাদের তুলনায় আমরা বেহেশতে আছি, এই কথা বলেছিলাম। কিন্তু আপনারা (সাংবাদিকরা) এক্কেবারে উল্টা!”

এর আগে শুক্রবার সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পে ‘ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ক’ মতবিনিময় সভা শেষে বৈশ্বিক মন্দায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমরা সুখে আছি, বেহেশতে আছি’।

শনিবার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি ইংল্যান্ডে ১২ ভাগ, টার্কিতে ৬৭ ভাগ, পাকিস্তানে ৩৭ ভাগ, শ্রীলঙ্কায় ১৫০ ভাগ, আমরা ৭ ভাগ... সেই দিক দিয়ে আমরা ভালো আছি।’

বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ নদীগুলো খননের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সরকারের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী আগামী মাসের ৪/৫ তারিখ ভারত সফরে যাবেন। সফরের আগে যৌথ নদী কমিশনের সভায় ছয়টি নদীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। ১০-১২ বছর বিরতির পর এ মাসের শেষের দিকে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনায় আসবে।’

উজানের পাহাড়ি ঢলে সিলেটের আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ফলে বন্যার পূর্বাভাস বাংলাদেশকে আগাম জানিয়ে দেওয়া ও ড্যামগুলো উন্মুক্ত করার পূর্বে তথ্য দেওয়ার প্রস্তাবও ভারতকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।