দিনাজপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। রসিদ ছাড়াই এসব টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, গত শনিবার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের মৌখিক পরীক্ষায় সম্পন্ন হয়। এতে অংশ নেন ১ হাজার ১৪৫ শিক্ষার্থী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৭৫ টাকা নেওয়ার কথা। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিভাগীয় প্রধান তাদের কাছ থেকে নেন ৪৫০ টাকা করে।

কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার রুম্পার অভিযোগ, মৌখিক পরীক্ষা ফি ৭৫ টাকা করে নেওয়ার কথা থাকলেও তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৪৫০ টাকা। দেওয়া হয়নি কোনো রসিদ। একই অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী আসাদ ইসলাম, আবুল হোসেন, সুমি পারভীন, শাহ ইকবাল, রুবেল ইসলামসহ অনেকের।

শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৮ সালে প্রিলি টু মার্কস পরীক্ষায় ২২২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকার স্থলে ৪০০ টাকা করে আদায় করা হয়। অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ১০৫ শিক্ষার্থী। শিক্ষা সফর না করে ভুয়া বিল-ভাউচারে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বিভাগীয় প্রধান।

ওই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাকিবুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে বেশ কিছু বিতর্কিত বই ক্রয় করা হয়, যা বাজেয়াপ্ত করেন তাঁরা। ফলে তাঁদের নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্তা করা হলে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দেন তাঁরা। পরে কলেজ ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুটি কমিটি তদন্ত করে এসব বিষয়ে প্রমাণ পেয়েছে।

বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেননি। যদি কেউ অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকে, সেটি তাঁর জানা নেই। বিতর্কিত বই ক্রয় কিংবা যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেসব বিষয়ে তদন্ত হয়েছে। তদন্তাধীন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সে সবের তদন্ত হয়েছে। বিতর্কিত বই ক্রয়সহ বেশ কিছু অভিযোগ প্রমাণিতও হয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে হিসেবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা যাবে না। এ বিষয়টিও সব বিভাগকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এর পরও যদি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।