কুমিল্লায় গ্রেপ্তার হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে শনিবার রাতে ঘর থেকে পালিয়ে যায় সেলিনা বেগম নামের এক নারী আসামি। এর পরদিন সকালে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রোববার সকালে জেলার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের গল্লাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের খারকান পুকুর থেকে সেলিনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেলিনা ওই গ্রামের দিনমজুর নাছির উদ্দিনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক ব্যক্তির সাথে টাকা পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালত নাছির উদ্দিন, তার স্ত্রী সেলিনা ও মেয়ে তানজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গত ১১ আগস্ট ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চান্দিনা থানায় আসার পর পুলিশ ১৩ আগস্ট রাতে তাদের গ্রেপ্তার করতে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়।

এসময় নাছিরের স্ত্রী সেলিনা ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ খোঁজাখুজি করে সেলিনাকে না পেয়ে নাছির উদ্দিন ও তার মেয়ে তানজিনাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

এরই মধ্যে রোববার সকালে এলাকার লোকজন বাড়ির পাশের একটি পুকুরে সেলিনার মরদেহ ভাসতে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে সেলিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।

নাছির উদ্দিন জানান, রাত দেড়টার দিকে পুলিশ এলে আমি দরজা খুলে দেই। পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টি জানায় এবং আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। এসময় আমার স্ত্রী ঘরের বাইরে চলে যায়। এরপর আর আমার স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলার বাদী পক্ষ আমার স্ত্রীকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দিতে পারে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আটক করতে যায়। কিন্তু ওই নারী কৌশলে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বসত ঘরের পেছনে থাকা ওই পুকুরের পাড় অনেক উঁচু। হয়তো গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পা পিছলে পুকুরে পড়ে যেতে পারে। পুকুরের মধ্যে অনেক ঝোপঝাড় থাকায় হয়তো উঠতে পারেনি।