ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা-সিরাজগঞ্জ-ঈশ্বরদী রুটে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ট্রেন না পেয়ে বিক্ষুব্ধ শতাধিক যাত্রী স্টেশন মাস্টারের কক্ষ ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। যাত্রীদের আকস্মিক তোপের মুখে কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার টিকিটের মূল্য ফেরত দিয়ে রক্ষা পান।

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জের ঢাকা-ঈশ্বরদী রুটের জামতৈল স্টেশনে সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

পাবনার চাটমোহর এলাকার বাসিন্দা গার্মেন্টসকর্মী রাসেল হোসেন জানান, জামতৈল স্টেশনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দীর্ঘ বিরতিতে দুর্ভোগে পড়েন ঢাকাগামী কমিউিটার ট্রেনের যাত্রীরা। স্টেশন মাস্টারের কাছে টিকিটের দাম ফেরত চেয়ে না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন অনেক যাত্রী। এসময় জিআরপি ও ট্রেনের নিরাপত্তা পুলিশ এসেও বিক্ষুদ্ধ যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। পরে টিকেটের ৮০ শতাংশ টাকা ফেরত দেয়া হলে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা কিছুটা শান্ত হন।

জামতৈল স্টেশনের বুকিং সহকারী-কাম-স্টেশন আব্দুল হান্নান বলেন, ঢাকা-পঞ্চগড়গামী দ্রুতযান আন্তঃনগর ট্রেনের বগি গাজীপুরে লাইনচ্যুত হওয়ায় ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে জামতৈল থেকে সিরাজগঞ্জ এপপ্রেস ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ১১টার পর ট্রেনটি ছেড়ে যায়। ঢাকার কমিউটার ট্রেনটি বেলা ১২টায় কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও দুপুর ২টায় সেটি জামতৈল স্টেশনে যাত্রা বিরতি করে। যাত্রা বাতিল করে পরে ট্রেনটি ৩টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফেরত পাঠানো হয়। পরে বিক্ষুব্ধ যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেয়া হয়। সকাল ৮টা থেকেবিকেল ৩টা পর্যন্ত্ম সাত ঘন্টা সিডিউল বিপর্যয়ের কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহিদুর রহমানের মোবাইলে ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন-অর-রশিদ মৃধা বলেন, সিডিউল বিপর্যয়ের কারনে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে তাদের টিকেটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। টাকা ফেরত পেয়ে তারা কিছুটা শান্ত হন।