নিত্যদিনের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি ঘুচাতে সুহৃদ সমাবেশ ঈশ্বরগঞ্জ আয়োজন করে আনন্দ ভ্রমণের। দুপুরের প্রখর রোদ ভেদ করে একে একে সুহৃদরা হাজির হন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে। সেখান থেকে যাত্রা ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা ভ্রমণে। পথেই শুরু হয় সুহৃদের উচ্ছ্বাস। গন্তব্য পৌঁছায় উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটর দূরের ব্রহ্মপুত্র নদের উচাখিলা ইউনিয়নের বালুর ঘাটে।

খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিকে অথৈ জল। বাতাস আর জলের ঢেউয়ে মুখর চারপাশ। কবির ভাষায় বলতে গেলে- 'জলের উপরে চলেছে জলের মেয়ে, ভাঙিয়া টুটিয়া আছড়িয়া পড়ে ঢেউগুলি তটে যেয়ে।' জলের সঙ্গে মানুষের চিরদিনের প্রেম। ব্রহ্মপুত্রের জল হাওয়ার সৌন্দর্যে বিমোহিত সুহৃদ সাধারণ সম্পাদক খালি কণ্ঠে এখন জনপ্রিয় 'সাদা সাদা কালা কালা' গানটি গাওয়া শুরু করেন। তাতে কণ্ঠ মেলান সবাই। একে একে শুরু করে নিজের প্রিয় গান গাওয়ার আসর। বাংলার মাটি-মানুষের গানে তীরবর্তী পাড়ের মানুষ দৌড়ে নদীর পাড়ে আসেন। তারাও উপভোগ করেন সুহৃদদের আনন্দ।

প্রায় দুই ঘণ্টা নৌকা ভ্রমণ শেষে নদের ওপারে সুহৃদরা। ব্রহ্মপুত্রে জেগে ওঠা সবুজ চত্বরে নৌকা থেকে একে একে নামেন তারা। ছায়াঘন বিকেল। তপ্ত রোদ অস্ত গিয়েছে প্রায়। লালচে আভা চারপাশে। শুরু হয় সুহৃদের প্রতিযোগিতার আসর। শিশুদের চকলেট দৌড় দিয়ে শুরু। দ্বিতীয় পর্বে নারীদের নির্দিষ্ট বারে গোল করার পালা। নির্দিষ্ট সীমানার ভেতর দিয়ে বল প্রবেশ করাতে পারলেই গোল। শেষ পর্বে ছিল পুরুষদের বেলুন রক্ষার লড়াই। প্রায় ৪০ জন পুরুষ একাট্টা অংশগ্রহণে শুরু হয় এ খেলা। প্রায় ৩০ মিনিট চলে এ খেলা। প্রতিটি পর্ব থেকে তিনজন করে বিজয়ী নির্ধারিত হন।

অপরাহপ্ত। চারপাশে পাখিরা নিজ কণ্ঠের গান গেয়ে নীড়ে ফেরায় ব্যস্ত। ঠিক তখন শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী পর্ব। একে একে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সুহৃদের সাধারণ সম্পাদক ও উপদেষ্টামণ্ডলীরা। সবার হাতে সান্ত্বনা পুরস্কার তুলে দেন সুহৃদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম শুভ।

এবার লটারির ড্র নিয়ে হাজির হন মাসুম ভূঁঞা, মোজাম্মেল হক হিরণ ও বায়েজিদ ইসলাম বিজয়। লটারিতে ২০টি পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সমকালের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান, সুহৃদ সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ফারুক, সাংবাদিক ফেরদৌস কোরাইশী টিটু, আতাউর রহমান, রুহুল আমিন রিপন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল বাশার।

এবার নীড়ে ফেরার সময়। নদীর তীরে সবাই নৌকার অপেক্ষায়। ফেরার পথে জ্যোৎস্না ও জলের ঝলকানি। সঙ্গে স্বচ্ছ স্নিগ্ধ বাতাস। এ যেন জলের সঙ্গে জোছনার খেলা। ফেরার পথে হুমায়ূন আহমেদের চির পরিচিত গান, 'চাঁদনি পসরে কে আমার স্মরণ করে/ কে আইসা দাঁড়াইলো গো আমার দোয়ারে' গেয়ে সব সুহৃদ নদী পার হলেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক, ঈশ্বরগঞ্জ