ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একদিনের ব্যবধানে ননদ ও ভাবির আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার ও মঙ্গলবার উপজেলার নাসিরপুর ও দাতমন্ডল গ্রামে এসব আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া দুজন হলেন-, উপজেলা সদর ইউনিয়নের নাসিরপুর গ্রামের আক্তার মিয়ার স্ত্রী ও একই ইউনিয়নের দাতমন্ডল গ্রামের মঞ্জু মিয়ার মেয়ে জরিনা বেগম (২৮) এবং কিশোরগঞ্জর জেলার অষ্ট্রগাম উপজেলার জরিনার ভাই মতিন মিয়ার স্ত্রী বিপাশা বেগম(৩০)। মারা যাওয়া দুইজন সম্পর্কে ননদ-ভাবি। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  জরিনার স্বামী আক্তার মিয়ার সঙ্গে তার ভাবি বিপাশার দীর্ঘদিন ধরে প্রেম চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে জরিনা ইঁদুর মারার বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তার স্বামী আক্তার মিয়া টের পেয়ে তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা দ্রুত জরিনাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরার্মশ দেয়। পরে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকাল চারটার দিকে মারা যায় জরিনা।

এদিকে জরিনার মৃত্যুর রেশ না কাটতেই তার ভাবি বিপাশা বেগম মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাকেও পরিবারের লোকজন নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে যাওয়ার পথে দুপুর দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

জরিনার স্বামী আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি প্রেমের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয়রা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার স্ত্রীর সাথে খুব ভাল সম্পর্ক ছিল।

বিপাশার স্বামী মতিন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, পরে তার বাবা মঞ্জু মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি সমকালকে বলেন, আমার মেয়ে জরিনা কি কারণে মারা গেছে সেটা এখন বলা যাবে না। তবে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষ মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

নাসিরনগর থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, রোববার জরিনা বেগম নামে এক গৃহবধু ইঁদুরের বিষপানে আত্মহত্যা করে বলে জানতে পেরেছি। পরে লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  মঙ্গলবার জরিনার ভাবী বিপাশা বেগমও বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোন পরিবারই লিখিত কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।