চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে রাস্তায় থালা হাতে বসে আছেন চারজন। পেছনে ব্যানারে নিয়ে দাঁড়ানো অনেকে। ব্যানারে লেখা, ‘বুলবুলিতে ধান খেয়েছে, খাজনা দিবো কিসে? জ্বালানি তেলে ৩৭ শতাংশ খাজনা মওকুফ করো গরিব-মধ্যবিত্তদের বাঁচতে দাও।’

মঙ্গলবার দুপুরে এভাবে মানববন্ধনে অংশ নেন নগরের গরিব-মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন।

এ সময় বক্তারা বলেন, করোনা-লকডাউন, বন্যা, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এমনিতেই দেশের অর্থনীতি ভালো নেই। সব কিছুর দাম বাড়তি। গরিবরা ঠিকমতো খেতে পায় না, মধ্যবিত্তরা খাবার কম খায়। ঋণের চাপে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে দেশে। মূল্যস্ফীতিতে দেশের প্রতিটি জনগণ দিশেহারা। কিন্তু এর মধ্যে হঠাৎ করে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা'র মতো অতি উচ্চহারে বৃদ্ধি করা হলো জ্বালানি তেলের মূল্য।

মানববন্ধনে মুহম্মদ রাসেল নামের একজন বলেন, নতুন দামে ডিজেল ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৩০ টাকা হলো। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলা হলেও এ মূল্য প্রকৃতমূল্যের ওপর সরকারের নানা প্রকার শুল্ক ও কর সহকারে মূল্য। এই মূল্যের মধ্যে শুল্ক ১০ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ, অগ্রিম ভ্যাট ৫ শতাংশসহ মোট শতকরা ৩৭ শতাংশ হচ্ছে সরকারি শুল্ক ও কর। এ যেন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এক বিরাট লাভজনক ব্যবসা।

মুহম্মদ সাজ্জাদ হুসাইন নামের একজন বলেন, জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যাপকহারে বেড়েছে পরিবহন ভাড়া। আর যেহেতু পরিবহনের সঙ্গে দৈনন্দিন সব মৌলিক খাত জড়িত, তাই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সব জীবন ব্যয় কয়েকগুণ বাড়ছে, যা দেশের ৯৯ শতাংশ জনগণের জন্য সামাল দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এভাবে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দেশের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মৃত্যু ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন নামের একজন বলেন, জনগণের জন্যই রাষ্ট্র, জনগণের জন্যই সরকার। সেই জনগণকে শোষণ করে রাষ্ট্র তার লাভজনক ব্যবসা অব্যাহত রাখতে পারে না।