কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ খাদ্যগুদাম থেকে ১৯০ টন সরকারি চাল লোপাটের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

গত ২ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ। তিনি বর্তমানে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে যুক্ত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার কক্সবাজার আসার পর তিনি অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি জানান। তিনি জানান, মামলার ৬ আসামির মধ্যে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ পাল চৌধুরীর বিরুদ্ধেই শুধু অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় বাকি পাঁচ আসামির খাদ্যগুদামের তিন কর্মচারী এবং দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, গত ২ জানুয়ারি কক্সবাজারে দুদক কার্যালয় চালু হওয়ার পর অভিযোগপত্র দেওয়া এটিই প্রথম মামলা। দীর্ঘদিন তদন্ত করে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র দিয়েছেন। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত।

এর আগে ২০২০ সালের ২১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কক্সবাজার সদর এলএসডি থেকে ৩০২ দশমিক ৬৭৯ টন চাল বড়ঘোপ খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১৯০ দশমিক ৪৪২ টন সরকারি চাল গায়েব হয়। এ ঘটনায় খাদ্য কর্মকর্তা পলাশ পালসহ গুদামের খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী শাহজাহান প্রকাশ মিন্টু, নিরাপত্তা প্রহরী নিজাম উদ্দিন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের স্প্রেম্যান মো. শাহজাহান, মেসার্স হিমায়ন সি-ফুডসের মালিক দিলরুবা হাসান এবং মেসার্স মোহনা এন্টারপ্রাইজের মালিক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মামলা করে দুদক। 

এতে ৮৫ লাখ ২৫ হাজার টাকার চাল আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় ৩০ জুলাই খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ পালকে কক্সবাজার শহর থেকে আটক করা হয়।

কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক রূপান্তর চাকমা বলেন, পলাশ পালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে। এ মামলায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শুনানি হতে পারে।