অনির্দিষ্টকালের জন্য খাবার হোটেল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন কুয়াকাটা খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। আর এ ধর্মঘটের  ফলে বিপাকে পড়েছেন সেখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টায় কুয়াকাটা খাবার হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি সেলিম মুন্সি এ ঘোষণা দেন।

মূলত পদ্মা সেতু চালুর পর কুয়াকাটা সৈকতে বাড়তে শুরু করেছে পর্যটকদের সমাগম। তবে কুয়াকাটার খাবার হোটেলগুলো পর্যকটকদের গুনগত খাবার পরিবেশনে পিছিয়ে ছিল। তাই পর্যটকদের সেবা নিশ্চিতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ট্যুরিজম ব্যবসায়ীদের সচেতনায় ও যুগোপযোগী সেবা নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে খাবার হোটেল মালিক সমিতি আকস্মিক ধর্মঘটের ডাক দেয়।  

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দফায় দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

তবে প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে তাদের তাগিদ দিলেও একই কাজ বার বার করছে। 

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ক্ষুব্ধ কুয়াকাটা খাবার হোটেল মালিক সমিতি সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম মুন্সী বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিন খাবার হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নামে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করে যাচ্ছেন। একই হোটেলকে একাধিকবার জরিমানার আওতায় নেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই কুয়াকাটার সব খাবার হোটেল মালিক একত্রিত হয়ে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আমার মালিকানাধীন আল-মদিনা নামের একটি খাবার হোটেলে গত ১১ আগস্ট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা হয়। ১৬ আগস্ট পুনরায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষণিক জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আমাকে বেশকিছুক্ষণ পুলিশ দিয়ে আটকে রাখা হয়। সুদে আনা টাকা দিয়ে জেল খাটা থেকে বেঁচেছি। 

খাবার হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কলিম মাহমুদ বলেন, প্রশাসনের এই হয়রানি সামাল দিয়ে আমাদের পক্ষে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব না। তাই আমরা প্রায় ৫০টি খাবার হোটেল মালিক একমত হয়ে আজ থেকে প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

এদিকে আবাসিক হোটেল মালিকদের সংগঠন কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ মোতালেব শরীফ বলেন, খাবার হোটেল বন্ধ থাকা বা রাখা সমাধান নয়। পর্যটকদের স্বার্থে ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। 

মঙ্গলবার সকালে ৩০ সদস্যের একটি বহরে ঢাকার মুন্সীগঞ্জ থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা ইসতিয়াক ইমরান বলেন, সকাল থেকে কিছুই খাওয়া হয়নি। সাথে পরিবারের শিশুসহ বয়স্ক লোকজন আছে। তাই এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। 

ট্যুরিজম ব্যবসায়ী ইমরান বলেন, জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত ট্যুরিজম ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ প্রসংঙ্গে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক বলেন,পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার রেস্তোরাঁ মালিকদের আকস্মিক ধর্মঘট ডাকাটা অযৌক্তিক। পর্যটকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের গুরুত্বে কুয়াকাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। খাবার হোটেল মালিকরা তাদের যৌক্তিক দাবি থাকলে জেলা প্রশাসককে জানাতে পারেন।