ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শামসুদ্দোহাকে (৪০) দুই বছর ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রদীপ কুমার রায়।

মঙ্গলবার বিকেল এ আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় মো. শামসুদ্দোহা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মো. শামসুদ্দোহা গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানায় পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মো. শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে তার স্ত্রী ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এক নম্বর সড়ক এলাকার বাসিন্দা ফারজানা খন্দকার ওরফে তুলি (৩২) গত ৯ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

২০১৫ সালের ৭ আগস্ট শামসুদ্দোহার সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। তাদের একটি লেছে সন্তান রয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রায়েরবাজার এলাকা থেকে গুলশান থানা পুলিশ যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারপিট ও নির্যাতনের অপরাধে দায়ের করা মামলায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শামসুদ্দোহাকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করে।

এ মামলার তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের। তিনি গত ১৭ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) আদালতে জমা দেন।

ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি স্বপন পাল জানান, আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১১(গ) ধারায় শাসুদ্দোহাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২ বছর ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার টাকা শামসুদ্দোহাকে পরিশোধ করতে হবে, এখানে অনাদায়ের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তা করেন ফরিদপুর জজ কের্টর আরও দুই আইনজীবী মোহাম্মদ আবু জাফর ও গুলজার মৃধা।

আইনজীবী গুলজার মৃধা বলেন, ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শামসুদ্দোহা আদালতে জামিনের আবেদন জানান। নিম্ম আদালতে জামিন না মঞ্জুর না হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান। হাইকোর্ট তাকে জামিন না দিয়ে আগামী চার মাসের মধ্যে এ মামলাটি শেষ করার জন্য ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালকে নির্দেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর শামুদ্দোহাকে দর্শনা থেকে রংপুর জোনে বদলী করা হয়। পরে সেখানে থেকে তাকে সাসপেন্ড করা হয়।

এ মামলার বিবাদী পক্ষের আইনজীবী জাহিদ ব্যাপারি বলেন, ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হয়েছে, আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করা হবে।