চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ জালালাবাদ এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মতিন বাদী হয়ে বায়েজিদ থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকার নজীর আহমেদ চৌধুরী রোডের আব্দুল বারেকের ছেলে মো. আব্দুর রাজ্জাক (৪৭) এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল গ্রামের মোহাম্মদ শামছুল হকের ছেলে মোহাম্মদ ইউছুফ আলী (৪৮)।

এদিকে পুকুর ভরাটের অভিযোগে নগরের হালিশহর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক (মেট্রো) হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, আইন অমান্য করে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়ায় দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। নগরীর বায়েজিদ এলাকার ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ করছিলেন মো. আব্দুর রাজ্জাক ও মোহাম্মদ ইউছুফ আলী নামে দুই ব্যক্তি। পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা খুঁজে পান। পরে শুনানি শেষে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয় অধিদপ্তর।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন, দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করা যাবে না। এমন আইন অমান্য করেই এরা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বায়েজিদ থানাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ড জালালাবাদ জানুর বাপের খামারে আলাদা দুটি দাগে পাহাড় কেটে একটিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন আসামিরা। অন্যটিতে সেমিপাকা ঘর তৈরি করা হয়েছে। আসামি আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে দুই হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকায় পুকুর ভরাটের অভিযোগে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আসামিরা হলেন- মো. জনি, মো. জিসান, মো. আকরাম ও মো. সোহাগ। অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক জানান, ছোটপুলের আমিরুজ্জামান সরকারবাড়ি এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই একটি পুকুর ভরাট করা হচ্ছিল। গত মঙ্গলবার একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এর সত্যতা পান। এসময় দুই শ্রমিককে আটকও করা হয়। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।