চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে আট লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে ৬ আগস্ট। অভিযুক্ত মানিক চন্দ্র দাশকে পরদিনই বহিষ্কার করেন উপাচার্য ড. শিরীন আখতার। এ ঘটনায় পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্তপ্রতিবেদন জমা দেওয়ার শর্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত রোববার এই পাঁচ কর্মদিবস শেষ হলেও এখনও প্রতিবেদন জমা দেয়নি তদন্ত কমিটি। কমিটির সদস্যরা বলছেন, অভিযুক্ত মানিক দেখা করতে নারাজ হওয়ায় প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব হচ্ছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নির্মল কুমার সাহা সমকালকে বলেন, মানিক চন্দ্রকে দেখা করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি দেখা করতে রাজি হননি। তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তিনি দেখা করতে নিরাপদ বোধ করছে না। তিনি আরও ৩০ দিন সময় চান। আবার ভুক্তভোগীদের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি। তাই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, মানিক ঠিকমতো অফিসে আসতেন না এমন অভিযোগে দুই মাস আগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি-না জানতে চাইলে ভুক্তভোগী মাকসুদুল সালেহীন বলেন, ‘যোগাযোগ করেছি, কর্তৃপক্ষ মামলা করতে বলেছে। কর্তৃপক্ষকে আরেকটি নোটিশ পাঠানোর পর মামলা করবো।’

গত ৬ আগস্ট চবিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তিন প্রার্থীর কাছ থেকে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বেশকিছু অডিও তথ্য ফাঁস হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার সেলের গ্রন্থাকার সহকারী মানিক চন্দ্র ও তার স্ত্রী নিপা রানির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন মাদারীপুরের তিন চাকরিপ্রার্থী।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের তিনজনকে চাকরির প্রস্তাব দেয় মানিক চন্দ্র ও তার স্ত্রী। প্রথমে এক লাখ টাকা চাইলেও পরে বিভিন্ন সময় তাদের কাছ থেকে আট লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ওই দম্পতি।