প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্টিকার লাগানো জিপগাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এক ব্যক্তিকে নিয়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ গাড়ি নিয়ে তিনি উপজেলা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। রাস্তাঘাট ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে তাঁকে মাঝেমধ্যেই দেখা যায়। সঙ্গে গানম্যানও রাখেন তিনি। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁর সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না।

হানা গ্রুপের চেয়ারম্যান পরিচয় দানকারী হারুন অর রশীদ মোল্লা নামে ওই ব্যক্তি এলাকায় বলে বেড়ান- তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দোভাষীর কাজে নিয়োজিত। তিনি শ্রীনগর উপজেলার কুকুটিয়া ইউনিয়নের বিবন্দী গ্রামের বাসিন্দা; থাকেন ঢাকায়।

গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের রুসদী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে তদন্তে আসেন শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা। এ সময় 'প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়' লেখা স্টিকার লাগানো নিশান ব্র্যান্ডের একটি জিপগাড়ি (ঢাকা মেট্রো ঘ-০২ ৩০১৭) নিয়ে উপস্থিত হন হারুন মোল্লা। তাঁর সঙ্গে শতাধিক বহিরাগত লোক বিকট শব্দে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজাতে বাজাতে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। ক্লাস চলাকালে এ ঘটনায় ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হারুন মোল্লার সঙ্গে আসা বহিরাগতরা বেশ কয়েকবার উত্তেজনার সৃষ্টি করলে শ্রীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় কুকুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজাউল করিম রেজা বলেন, হারুন মোল্লার কোনো দলীয় পদ-পদবি নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্টিকার লাগানো গাড়ি ও সঙ্গে গানম্যান নিয়ে তাঁকে প্রায়ই এলাকায় আসতে দেখা যায়।

হারুন মোল্লা বলেন, ওই দিন মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে কে এসেছিলেন, তা তিনি জানেন না। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লেখা স্টিকার লাগানো গাড়িটি নিয়ে তিনি এসেছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি দোভাষীর কাজ করেন। শ্রীনগর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি আসার বিষয়ে শুনেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন।