মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগানে অচলাবস্থা পুরোপুরি কাটছে না। জেলার কিছু বাগানে আংশিক শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও বেশির ভাগ বাগানে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুলাউড়ার লুয়াইউনি-হলিছড়া বাগানের সামনে শ্রমিকরা তিনশ টাকা মজুরি দাবিতে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়ক অবরোধ করেন।  

এ দিকে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চলমান সংকট ও অচলাবস্থা নিরসনে শ্রম ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় শ্রম ভবনের সভাকক্ষে চা শ্রমিক নেতারা এক বৈঠকের আয়োজন করেছেন। এ বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

 গতকাল শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানা যায়, ২৫ আগস্টের সভায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। 

এছাড়া শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গলের উপ-পরিচালক মো. নাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি, বালিশিরা ভ্যালির কার্যকরী পরিষদের সভাপতি বিজয় হাজরা, সিলেট ভ্যালির কার্যকরী পরিষদের সভাপতি রাজু গোয়ালা, মনুধলই ভ্যালির কার্যকরী পরিষদের সভাপতি ধনা বাউরী, লস্করপুর ভ্যালির কার্যকরী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র্র গৌড় ও লংলা ভ্যালির কার্যকরী পরিষদের সভাপতি শহীদুল ইসলামকে যথাসময়ে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। 

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা ২৫ আগস্টের বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি আরও ২-৩ জন নেতাকে বৈঠকে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছেন।

এ দিকে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নাহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া, কালিঘাট, ফুলছড়া চা বাগানে সাধারণ শ্রমিকসহ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে কাজে যোগদান করার আহবান জানিয়েছেন। 

অন্যদিকে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া, কুলাউড়ার গাজীপুর, কমলগঞ্জের দেওড়াছড়া, মৃত্তিঙ্গা বাগানসহ কিছু বাগানে শ্রমিকরা কাজ করেছে বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বলেন, সকাল থেকে ভ্ড়াাউড়া,কালিঘাটসহ বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। গতকালও কিছু বাগানে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। আশা করছি কাল আরও কিছু বাগানে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন।

 অপরদিকে কুলাউড়ার লুয়াইউনি-হলিছড়া বাগানের সামনে সিরাজনগর, মাথিউড়াসহ কয়েকটি বাগানের শ্রমিকরা তিনশ টাকা মজুরি দাবিতে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় চা শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের স্কুল-কলেজে পড়ুয়া  ছেলে-মেয়েরা বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অবস্থান করে। 

এ দিকে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়ক দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। রাস্তার দুই পাশে শত-শত যানবাহন লাইনে দাড়িয়ে থাকায় তীব্র রোদের মাঝে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কুলাউড়া থানার ওসি আব্দুছ সালেক সড়ক অবরোধের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত ৯-১২ আগস্ট পর্যন্ত মৌলভীবাজারের ৯২টিসহ সারাদেশের ১৬৭টি চা বাগানে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন চা শ্রমিকরা। গত ১৩ আগস্ট থেকে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেন চা শ্রমিকরা। ১৬-২১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চা শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে ৫টি বৈঠক করেও কোনো সুরাহা হয়নি। তবে ২২ আগস্ট দুপুর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে কিছু কিছু বাগানে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন।