নোয়াখালীতে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আট পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৩ জনকে। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের টাউন হল মোড় জিলা স্কুল ও জেলা জামে মসজিদ এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, জ্বালানি তেল ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, অসহনীয় লোডশেডিং এবং ভোলায় দুই নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে জেলা প্রেস ক্লাব চত্বরে সদর উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় পুলিশ নেতাকর্মীদের বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংঘর্ষের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে আট রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। এর জবাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশ হয়। সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৫০০ থেকে ৭০০ নেতাকর্মী রশিদ কলোনি এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশের উদ্দেশে রওনা দেন। মিছিলটি টাউন হল মোড় পার হয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিকে আসতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিএনপি নেতা আবু নাছেরের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্য দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান। আরও বক্তব্য দেন গোলাম হায়দার বিএসসি, অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, শহীদুল ইসলাম কিরণ, এবিএম জাকারিয়া, অ্যাডভোকেট তরিকুল আহমেদ, ছলিম উল্যাহ বাহার, আলী কিরণ, নুরুল আমিন খান ও আজগর উদ্দিন দুখু।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষ করে বাড়ি যাওয়ার পথে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এর আগে সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে পুলিশ সোমবার গভীর রাতে দলের পাঁচজন নেতাকে আটক করে। তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।