সিলেটের ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাবা, ছেলে ও মেয়ের মৃত্যু বিষক্রিয়ায় নয় বলে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। জেনারেটরের ধোঁয়া থেকে দম বন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

নিহত তিনজনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ২০টি আলামতের রাসায়নিক বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পর্যালোচনা করেছেন। পরে তাঁরা একটি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেটি বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন।

গত ২৬ জুলাই বেলা ১১টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার কক্ষের দরজা ভেঙে রফিকুল ইসলাম (৫০), তাঁর স্ত্রী হোসনারা বেগম (৪৫), ছেলে সাদিকুর রহমান (২৫), মেয়ে সামিরা ইসলাম (২০) ও ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর রফিকুল ইসলাম ও মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। এরপর ৫ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিরা ইসলাম মারা যান।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রথমত লোকজনের আশঙ্কা ছিল, এ ঘটনা বিষক্রিয়ায় হতে পারে। তবে প্রতিবেদনে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিহত তিনজনের শরীরে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

‘আমরা প্রথম থেকে বলে আসছিলাম, যেহেতু সেটি আবদ্ধ ঘর ছিল এবং এক ঘরে পাঁচজন মানুষ বসবাস করেছেন। রাতে বিদ্যুৎ ছিল না, তাঁরা ঘরের ভেতরে জেনারেটর চালিয়েছিলেন। যেহেতু ঘরের দরজা-জানালা সব কটি বন্ধ ছিল। সেহেতু জেনারেটরের ধোঁয়ার কারণে এমনটি ঘটতে পারে।’ যোগ করেন তিনি।

পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন বলেন, প্রথম থেকে ঘটনাস্থল পর্যালোচনা করে যেটি বলে আসছিলাম ‘সাফোকেশন’। সে সাফোকেশনে তাঁরা দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে আমরা নিশ্চিত। চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী তদন্তের সঙ্গে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে এটি মিলে যাচ্ছে।’

ওসমানীনগরের বড় ধিরারাই গ্রামের রফিকুল ইসলাম সপরিবারে সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার পর ১৮ জুলাই উপজেলার তাজপুর স্কুল রোডের একটি চার তলা বাসার দু’তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেন। ২৫ জুলাই রাতে খাবার খেয়ে স্ত্রী, মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে বাসার কক্ষে রফিকুল এবং অপর দুটি কক্ষে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও শ্যালকের মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

সকালে বাসার অন্যান্য কক্ষে থাকা আত্মীয়রা ডাকাডাকি করে রফিকুল ও তার স্ত্রী সন্তানের সাড়াশব্দ না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন রফিকুলের শ্যালক দিলওয়ার। দুপুরে ওসমানীনগর থানা পুলিশ দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় পাঁচ প্রবাসীকে উদ্ধার করে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্ত্রী হোসনে আরা, বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম ও একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলামকে আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। রফিকুলের স্ত্রী হোসনে আরা ও ছেলে সাদিকুল সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও মারা যান মেয়ে সামিরা। তিনি ১১ দিন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় লাইফসাপোর্টে থেকে ৫ আগস্ট মারা যান।