পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতটি এখন পর্যটকদের কাছে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। গত ২২ জুলাই থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত এক মাসে সৈকতে গোসল করতে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভ্রমণপিয়াসীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই সৈকতে গোসলে নামতে অনীহা প্রকাশ করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ সৈকত থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টোয়াব) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জিও টিউব ও জিও ব্যাগের জন্য সৈকত থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এগুলো পর্যটকদের মরণ ফাঁদ হয়েছে। সৈকতে গোসলে নেমে এ পর্যন্ত সব মৃত্যু হয়েছে ওই গর্তের জন্যই। সৈকত রক্ষার নামে পাউবোর এ পদক্ষেপ মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

কুয়াকাটা সৈকতে গোসল করতে নেমে সর্বশেষ গত সোমবার শরীয়তপুরের শাহজাহানপুর থেকে আসা মো. সবুজ (২৭) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে সহকর্মীদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন তিনি। পরদিন জেলেদের জালে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।

এর আগের দিন দুপুরে তিন বন্ধুর সঙ্গে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন ঢাকার কেরানীগঞ্জের রায়েরবাগ থেকে আসা মাহবুবুর রহমান পারভেজ (২৯)। তিন ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। গত ২২ জুলাই সৈকতে গোসল করতে নেমে পাউবোর জিও টিউব ও জিও ব্যাগের ফাঁকের গর্তে ডুবে মারা যান ঢাকার বংশাল থেকে আসা নাহিয়ান মাহাদী নাফী (১৫)। গত এক মাসে জিও টিউব ও জিও ব্যাগের সঙ্গে ঢেউয়ের ঝাপটায় আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। নিয়মিতই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের এ সৈকতে।

ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আসা পর্যটক আমিনুল ইসলাম বলেন, সৈকত রক্ষার নামে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করে জিও টিউব ও জিও ব্যাগ স্থাপন করা ঠিক হয়নি। এতে এ সৈকত মৃত্যুকূপ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে এতে সৈকতের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে গেছে।

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, কুয়াকাটা সৈকতে কোনো চোরাবালি নেই। স্রোতের তীব্রতাও ততটা ভয়ংকর নয় যে পর্যটকরা ভেসে যাবেন। মনে হচ্ছে, ঢেউয়ের ঝাপটায় পাউবোর জিও টিউব ও জিও ব্যাগের সঙ্গে প্রচণ্ড আঘাত লেগে অজ্ঞান হয়ে এসব পর্যটক ভেসে যাচ্ছেন।

টুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল খালেকও একই মত দেন। তিনি বলেন, সৈকত থেকে বালু উত্তোলনের সময় টুরিস্ট পুলিশ বাধা দেয়। পরে পাউবোর কর্মকর্তা এসে উত্তোলনের অনুমতি দেন। এ কারণেই এখন এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। পাউবোর কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, বিপজ্জনক গর্তের স্থানে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা একটু সচেতন হলেই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।