ভেজাল সন্দেহে চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো ৯৮ টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার সোমবার বগুড়ায় সরকারি গুদাম নিতে অস্বীকৃতি জানায়। সারগুলো পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞদের ডাকা হয়েছে।

বিসিআইসি বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞদের বগুড়া পৌঁছার কথা রয়েছে। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সারগুলো সোমবার সকালে আটকে দেওয়া হলেও ওই খবরটি রাত ৯টার দিকে জানাজানি হয়।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক জানান, পরীক্ষায় যদি সারগুলো ভেজাল প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

বিসিআইসির স্থানীয় বাফার গুদামের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে ৯৮ টন টিএসপি সার বগুড়ায় পাঠানো হয়। পরিবহন ঠিকাদার 'মেসার্স এমএইচআর'-এর পাঠানো ৭টি ট্রাকে সারগুলো সোমবার ভোরে বগুড়া শহরের তিনমাথা এলাকায় বিসিআইসি বাফার গুদামে পৌঁছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় জেলা প্রশাসন থেকে তাদের জানানো হয়, চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকে পাঠানো সারের বস্তাগুলো বগুড়ায় আসার সময় পথে পরিবর্তন করা হয়েছে। অর্থাৎ বগুড়া আসার পথে ট্রাকগুলো থামিয়ে সারের বস্তাগুলো নামিয়ে অন্য বস্তা ঢোকানো হয়েছে।

বিসিআইসি বাফার গুদাম ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সার বোঝাই ট্রাকগুলো গুদাম চত্বরে প্রবেশ করলেও সেগুলো আনলোড করা হয়নি। বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষার পর প্রতিবেদন দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যদের মঙ্গলবার বগুড়ায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে সারগুলো পরীক্ষা কিছুটা সময় সাপেক্ষ।

জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক জানান, চট্টগ্রাম থেকে সারগুলো বগুড়ায় আনার পথে পরিবর্তন করা হয়েছে- এমন অভিযোগ আমরা একটি সূত্র থেকে পাই। তার পরপরই সারগুলো গ্রহণ অর্থাৎ গুদামে না ঢোকানোর জন্য বিসিআইসির স্থানীয় ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, যেহেতু অভিযোগ এসেছে, তাই সারগুলো পরীক্ষা করা হবে। সারের নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজশাহীর পরীক্ষাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে। পরীক্ষার পর যদি সারগুলো ভেজাল বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।