ভেজাল সন্দেহে চট্টগ্রাম টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে পাঠানো আরও ১৪০ টন সার বগুড়ায় বিসিআইসির বাফার গুদামে ঢোকানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার সকালে ১০টি ট্রাকে এসব টিএসপি সার বগুড়ায় আসে। এ নিয়ে সোমবার ভোর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৭ ট্রাকে থাকা ২৩৮ টন সার আটকে দেওয়া হলো।

এদিকে, ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম টিএসপি কমপ্লেক্স তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে। টিএসপি কমপ্লেক্সের উপ-প্রধান রসায়নবিদ রেজাউল হকসহ ওই কমিটির সদস্যরা বর্তমানে বিসিআইসির গুদামে অবস্থান করছেন।

এ ছাড়া সোমবার প্রথম দফায় আটকে দেওয়া সাতটি ট্রাকের সারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে রাজশাহী মৃত্তিকা ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগারে এসব নমুনা পাঠানো হয়।

বিসিআইসির বগুড়া বাফার গুদামের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, এমএইচআর করপোরেশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে প্রথম দফায় সাতটি ট্রাকে ৯৮ টন টিএসপি সার বগুড়ায় পাঠায়। সোমবার সকাল ১১টার দিকে সার নামানোর সময় বগুড়া জেলা প্রশাসন থেকে ফোন করে সেগুলো ভেজাল হতে পারে বলে সন্দেহের কথা জানানো হয়। সার গ্রহণ, গুদামে ঢোকানো কিংবা ডিলারদের মধ্যে বিতরণ করতেও নিষেধ করা হয়। প্রশাসনের সন্দেহ, বগুড়া আসার পথে ট্রাকগুলো থামিয়ে বস্তা পরিবর্তন করে ভেজাল সার ঢোকানো হতে পারে।

তদন্ত কমিটির সদস্য টিএসপি কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মাজহারুল ইসলাম বলেন, সার রাসায়নিকদ্রব্য হওয়ায় খালি চোখে দেখে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। আমাদের নিজস্ব ল্যাবে নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হবে। তিন দিনের মধ্যেই পরীক্ষার ফল জানা যাবে। সেটি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক জানান, পরীক্ষায় যদি সারগুলো ভেজাল বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।