প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যায় ৩৮০ শিশুসহ এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১১০০ ছাড়িয়েছে। 

মঙ্গলবার জাতিসংঘ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ‘নজিরবিহীন জলবায়ু বিপর্যয়’ আখ্যায়িত করে বিশ্ব সম্প্রদায়কে পাকিস্তানকে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের। 

এদিকে বন্যার পানিতে আটকা পড়া পর্যটকসহ ৩০০ মানুষকে হেলিকপ্টারে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে দুটি সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। যেসব স্থানে পৌঁছানে যাচ্ছে না সেখানে হেলিকপ্টার থেকে খাদ্য ফেলা হচ্ছে। 

বর্ষাকালের অস্বাভাবিক প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামোগত স্থাপনা এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বন্যায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ (দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ) ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

দেশটিতে গত তিন দশকের গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ১৯০ শতাংশ (মোট ৩৯০.৭ মিলিমিটার) বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর পাঁচ কোটি মানুষের বাস সিন্ধু প্রদেশ এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। কারণ এই প্রদেশে গত তিন দশকের তুলনায় ৪৬৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শেরি রেহমান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, প্রকৃতই দেশের এক-তৃতীয়াংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই দুর্যোগের ভয়াবহতাকে তিনিও ‘নজিরবিহীন বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়েছেন।