বিএনপির চলমান বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে গতকাল রোববার ফরিদপুর ও বরগুনা জেলায় সহিংস ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে ফরিদপুর শহরের কোর্ট চত্বরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে দলটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছাসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন। পরে ওই স্থানের দখল নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সমাবেশ করে। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি অভিযোগ করে, পুলিশের উপস্থিতি ও ইন্ধনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁদের সমাবেশে হামলা চালান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে বিএনপির সমাবেশ শুরুর কিছুক্ষণ পরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে হামলা চালান। বিএনপির একটি অংশ আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে অবস্থান নিলে সেখানেও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করা হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা এ সময় পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। প্রায় আধাঘণ্টা সেখানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে বিএনপি মাঠ ছাড়লে লাঠিসোটা নিয়ে মহড়া দেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বিকেলে বিএনপির সমাবেশস্থলে জেলা আওয়ামী লীগ কর্মসূচি করে। সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করেন, বিএনপিই তাঁদের মিছিলে হামলা করেছে। বিএনপির উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড আগামীতে প্রতিহত করারও ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংঘর্ষের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা আইনজীবী সমিতির ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে সেখানেই সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস ও সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন বলেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের অনুমতি নিয়ে আমরা সমাবেশ করছিলাম। কিন্তু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ হামলায় পুলিশ ও প্রশাসনের সরাসরি ইন্ধন রয়েছে। পরে আহতদের মধ্যে সিনিয়র তিন নেতা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল জলিল জানান, পুলিশের ইন্ধনে হামলার অভিযোগ সঠিক নয়। কোর্ট চত্বরে বিএনপির সভায় একদল যুবকের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি দেখে পুলিশ তাঁদের নিবৃত করে।

এদিকে, বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম মনির গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। বিকেলে পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়ার সিঅ্যান্ডবি এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় মনিসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান বলেন, তাঁদের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে আসছিলেন নুরুল ইসলাম মনি। গাড়িবহর সিঅ্যান্ডবি এলাকায় এলে ক্ষমতাসীনরা অতর্কিত হামলা চালায়।

তবে কাকচিড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু বলেন, বিএনপি আমলে মনি তাঁকেসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ ফাঁড়ির অস্ত্র লুটের মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। ক্ষমতার পালাবদলে দীর্ঘ ১৪ বছর এলাকাছাড়া তিনি। পাথরঘাটায় মনির আসার খবর পেয়ে আওয়ামী লীগ তাঁকে প্রতিহত করেছে।

অন্যদিকে, বিকেলে পাথরঘাটা গোলচত্বরে এক পথসভায় আওয়ামী লীগ নেতারা মনির পাথরঘাটা শহরে প্রবেশও প্রতিহতের ঘোষণা দেন। বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পাথরঘাটা (সার্কেল) তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। যতটুকু জানতে পেরেছি, দু'পক্ষের সংঘর্ষে ১০-১২ জন আহত এবং ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুলের নিন্দা: গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দুটি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বিএনপিকে ধ্বংস করতে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হিংস্রতা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আবারও অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এই উদ্দেশ্য পূরণে সরকার এখন আরও বেশি মাত্রায় দানবীয় রূপ ধারণ করেছে।