সরু চাল সম্প্রতি মিলগেটে বিক্রি হয়েছে ৭১ টাকা কেজি। ২৮ ও কাজললতার দাম ওঠে ৫৮ টাকা পর্যন্ত। বাসমতির দাম বেড়ে হয় ৭৯ টাকা। এখন সব চাল কেজিতে ২ টাকা কমেছে। মোটা চাল সরকারি গোডাউনে দিতে উৎপাদন করেন মিলাররা। সেই চালের দামও কেজিতে ২ থেকে থেকে ৩ টাকা কমেছে।
এ তথ্য জানান কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামের চাল ব্যবসায়ী ও চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন। অথচ ভোক্ত পর্যায়ে এর প্রভাব নেই। আগের চড়া দামেই কিনতে হচ্ছে।

শুল্ক্ক প্রত্যাহার, ধানের দাম কমা ও চাল কেনাবেচায় মন্দা দেখা দেওয়ার প্রভাব পড়েছে খাজানগরে। মিলারদের দাবি, সরু, মাঝারি ও মোটা চাল কেজিতে ২ টাকা কমে বিক্রি করছেন তাঁরা। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাঁদের কাছে আগে কেনা চাল থাকায় দাম কমাতে পারছেন না। নতুন চাল এলে ক্রেতারা সুবিধা পাবেন।

একাধিক মিল মালিক বলেন, চাল বিক্রি কমেছে। নতুন করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ক্রয়াদেশ দিচ্ছেন না বললেই চলে। নতুন আউশ জাতের ধান বাজারে আসায় এর প্রভাব পড়ছে। মিলগেটে দাম কমার ধারায় আছে। সামনে কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত কমবে। নতুন আউশ ধান বাজারে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়। মোটা জাতের এ ধানের কারণে চালের দামে প্রভাব পড়েছে। তবে সরু জাতের ধান এখনও কিছুটা চড়া। সরু চালের দাম মণে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

খাদ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রতি মণ ধানের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সে হিসাবে চাল কেজিতে কমপক্ষে ৫ টাকা কমার কথা। কিন্তু মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে ভোক্তারা সুফল পাচ্ছেন না। খুচরা ব্যবসায়ীরা চাল মজুত করায় তাঁরাও দাম কমাচ্ছেন না। কম দামে ধান কিনে বেশি দামে চাল বিক্রির অভিযোগও আছে মিল মালিকদের বিরুদ্ধে। গত সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে দুই মিল মালিককে জরিমানা করেছে ভোক্তা ও খাদ্য বিভাগ।

পৌর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আগে কেনা চাল বিক্রি হয়ে গেলে দাম কমবে। তারপরও ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা কমেছে দাম। আগামী সপ্তাহ থেকে ক্রেতারা কম দামে চাল কিনতে পারবেন।

খাজানগর মোকামের ফ্রেশ এগ্রো ফুডের এমডি ওমর ফারুক বলেন, মিলগেটে চালের দাম কমলেও বাজারের ব্যবসায়ীরা দাম কমাচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে। তাঁরা মিল মালিকদের ওপর দোষ চাপান সব সময়। এখন মিলাররা দাম কমালেও তাঁরা বেশি দামেই বিক্রি করছেন।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, মিল মালিকরা যে হারে দাম কমাচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি কমার কথা। তেলের দাম কমায় পরিবহন খরচ কমেছে। এর প্রতিফলন দেখা না যাওয়ায় অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মোকাম থেকে ধান আনতে খরচ বেড়েছিল। এখন লিটারে পাঁচ টাকা কমায় খরচ সাশ্রয় হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক সাইদুল ইসলাম বলেন, বাজার তদারকি চলছে। প্রয়োজনে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।