দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় অনেক আগেই খুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরাও ফিরে এসেছে শ্রেণিকক্ষে। তবে ফেরেনি তাদের মনোযোগ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পাঠ গ্রহণের ক্ষেত্রে মনোযোগ একপ্রকার হারিয়ে ফেলেছে তারা। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করে তুলতে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে মনোযোগী করতে এবং ক্লাস ফেলে বাইরে যাওয়া বন্ধে স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে ক্লাস হচ্ছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

কেন্দুয়া উপজেলার পৌর সদরসহ ১৩টি ইউনিয়নে ৩৭টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১৭টি মাদ্রাসা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করে তুলতে একই পদ্ধতিতে ক্লাস নিচ্ছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সকালে ক্লাসে প্রবেশ করার পরই বাইরে থেকে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ক্লাসের প্রতি মনোযোগী করে তোলা এবং তাদের অযথা ঘোরাফেরা বন্ধে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রইছ উদ্দিন বলেন, পাঠ গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সায়মা শাহাজান একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ঢোকার পর বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। মূলত শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে যেন ক্লাসের বাইরে অযথা ঘোরাফেরা না করতে পারে সেজন্যে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির চৌধুরী বলেন, আগে টিফিনের সময় ছিল বেশি। এখন টিফিনের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসে এসে ছুটির আগ পর্যন্ত যাতে আর বাইরে না যেতে পারে, টিফিনের সময় যেন স্কুল প্রাঙ্গণেই থাকে এজন্য গেটে তালা লাগিয়ে রাখা হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম বলেন, বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসা যাওয়া এবং ক্লাসের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীরা ঝরেও পড়তে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ঢুকে যেন ক্লাসের প্রতি মনোযোগী থাকে সেজন্য বাইরে থেকে গেটে তালা লাগিয়ে রাখার বিষয়টি আমার কাছে যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।