রংপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত বাসের হেলপার আনোয়ার হোসেনের (৪৫) বাড়িতে চলছে মাতম। টিনের ঘরের বারান্দায় গ্রামের নারীদের গলা ধরে কাঁদছেন আনোয়ারের স্ত্রী রফিকা বেগম (৩০), মা অলিমা বেগমসহ (৬৫) স্বজনরা। কাঁদতে কাঁদতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন তারা। সঙ্গে কাঁদছে আনোয়ারের দুই শিশু সন্তানও। 

যার আয় দিয়ে তিন বেলা মুখে অন্নের যোগান হতো, সেই উপার্জনক্ষম একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে তিন বেলা মুখে অন্ন জুটবে কীভাবে সেই নিয়ে দিশেহারা পরিবারটি। অনটনের সংসারে স্বামীর মৃত্যু এখন রফিকার জীবনকে ঘোর অন্ধকারে ফেললো। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার। তিন বছর ধরে তিনি জোহানা পরিবহনে হেলপারের কাজ করতেন। তা দিয়ে টেনে-টুনে তাদের সংসার চলত। রোববার রাতে তারাগঞ্জ খারুভাজ সেতু এলাকায় জোহানা পরিবহন ও ইসলাম পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আনোয়ার। সোমবার দুপুরে পুলিশ তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। 

আনোয়ারের মা অলিমা বেগম বলেন, ব্যাটাই মোর সউগ ছিল। আল্লাহ মোর ব্যাটাক কাড়ি নিল। অ্যালা মুই কী করি চলিম। 

আর স্ত্রী রফিকা বলেন, স্বামীর উপার্জনে আমার সংসার চলতো। এখন কিভাবে দিন যাবে আমার। ছোট ছোট সন্তানকে নিয়ে আমি কী করে চলবো। ডিসি স্যার স্বামীর দাফনের জন্য তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু এরপর আমি কীভাবে চলবো, এখন আমি কী নিয়ে বাঁচবো। আমার অন্ন-বস্ত্রের যোগান হবে কীভাবে।