পুঠিয়া পৌর মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খানের বিরুদ্ধে এবার রাজশাহী কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী (২৪) ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। মামলার পর থেকে পলাতক আছেন মামুন। 

সোমবার সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ওই কলেজ ছাত্রীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়। ওই ছাত্রী পুঠিয়ার এক ব্যবসায়ীর মেয়ে। মামুন গন্ডগোহালী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। 

অভিযোগের বরাতে পুঠিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল বারী জানান, ধর্ষণের শিকার মেয়েটি রাজশাহী কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। গত বছর তার অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল। এরপর পারিবারিক সমস্যা দেখা দিলে তিনি মেয়র মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় মামুনের পরামর্শে তাদের ডিভোর্স হয়। এরপর মেয়েটিকে নিজবাড়ি গন্ডগোহালীতে আসতে বলেন মামুন। গত বছরের ২০ আগস্ট মেয়টিকে প্রথম ধর্ষণ করেন মামুন। মাঝে বিয়ে ও চাকরির প্রলোভন দিয়ে খান মোটরসে নিয়ে ধর্ষণ করেন। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট বিকেলে পুঠিয়ার খান মোটরসে ডেকে আবারও ধর্ষণ করেন। পরে তিনি রোববার রাতে পুঠিয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। রাত ১২টা ১০ মিনিটে থানায় মামলা রেকর্ড হয়।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী জানান, পারিবারিক সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে মেয়রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর সমস্যার সমাধানের নামে তাকে ধর্ষণ করে। পরে চাকরি ও বিয়ে করার নামে একাধিকবার ধর্ষণ করে। কিন্তু মামুন তাকে বিয়েও করেননি, চাকরিও দেননি। প্রতিবাদ করলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেন মেয়র।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, মেয়র মামুন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন নারীকে ধর্ষণ করেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছিলো।

এ বিষয়ে পুঠিয়া পৌর মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খানকে একাধিকবার ফোন করলেও তা রিসিভ হয়নি। 

ওসি আব্দুল বারী আরো বলেন, মেয়র মামুনের বিরুদ্ধে আগেও পুঠিয়া থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছিল। আবার হলো। মামলার পর থেকে মামুন পলাতক রয়েছেন। 

উল্লেখ্য, গত বছর ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালের নার্স দুর্গাপুর উপজেলার এক নারী মামুনের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় ধর্ষণ মামলা করেছিলেন। এতে ওই নার্স অভিযোগ করেছিলেন, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মামুন তাকে কয়েকবছর ধরে ধর্ষণ করেছেন। এক সময় ভুক্তভোগী নারী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। নার্স তার সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবি করলে গত বছরের ১১ এপ্রিল মেয়রের লোকজন তাকে ব্যক্তিগত অফিসে তুলে এনে নির্যাতন করে। 

খবর পেয়ে পুলিশ ওই নার্সকে মেয়রের চেম্বার থেকে উদ্ধার করেন। পরে ওই রাতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মেয়রকে আসামি করে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার কিছুদিন পর আওয়ামী লীগের এক জনপ্রতিনিধির তদবিরে বিষয়টি সমঝোতা হয়। পরে পুলিশ এ ঘটনায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।