চট্টগ্রাম রেলওয়ের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের পদোন্নতিসহ আট দফা দাবিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক কার্যালয় ঘেরাওয়ের পাশাপাশি মহাপরিচালককে স্মারকলিপি দিয়েছেন রেলের সর্বস্তরের কর্মচারীরা।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবিতে 'অফিস কর্মচারী পরিষদ বাংলাদেশ রেলওয়ে' নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে মহাব্যবস্থাপকের মাধ্যমে মহাপরিচালককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় রেলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক কর্মচারী অংশ নেন।

কর্মচারীরা রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তিনি কর্মচারীদের দাবিগুলো বিবেচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে আশ্বাস দিলে আন্দোলনে স্থগিত করে তারা কাজে ফিরে যান।

পদোন্নতি ছাড়া কর্মচারীদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- কর্মচারী নিয়োগ বিধি সংশোধন; চার হাজার ৭০০ জনবল কাঠামোতে আগের মতো দাপ্তরিক পদ বহাল রাখা; ঝুঁকি ভাতা প্রদান; বাসায় নিরবচ্ছিন্ন পানি-বিদ্যুৎ সরবরাহ করা।

এদিকে স্মারকলিপি প্রদানের আগে সিআরবি এলাকায় সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করেন রেলের সর্বস্তরের কর্মচারীরা। সংগঠনের আহ্বায়ক আবজুরুল হকের সভাপতিত্বে শান্তনু দাশের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মামুন। এছাড়াও রেলের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান, ফেরদৌস রহমান, মো. নুরুন্নবী, ফরিদা আকতার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রেলওয়ে শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মামুন সমকালকে বলেন, রেলের কর্মচারীদের পদোন্নতি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। নিয়োগবিধি-১৯৮৫ অনুযায়ী, লোকবল ছিল ৪০ হাজার। কিন্তু নিয়োগবিধি-২০০০ অনুযায়ী, লোকবল ৪৭ হাজার করা হলেও বিভিন্ন দপ্তর থেকে কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ কর্মকর্তাদের পদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিয়মিত তাদের পদোন্নতিও হচ্ছে। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে কর্মচারীদের পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। তাই দাবি আদায়ে কর্মচারীরা শেষ পর্যন্ত আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।