বরিশাল নগরী সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পূর্বতীরের চরকাউয়া থেকে প্রায় দেড়যুগ ধরে সাতটি রুটে চলাচল করছে  বাস। এই সাত রুটে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদসহ ছয় দফা দাবিতে সোমবার বেলা ১১টার দিকে বরিশাল নগরীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী নাগরিকরা।

'চরকাউয়ার ৭টি রুটের যাত্রীবৃন্দ' -এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট একে আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল, জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক দুলাল মজুমদার, গণসংহতি আন্দোলনের সদস্যসচিব দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু, জাসদ নেতা শহিদুল ইসলাম মিরন। সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতা মো. ফারুক মল্লিক।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, চরকাউয়া থেকে প্রতিটি রুটে দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কোনো যাত্রী বাড়তি ভাড়া দিতে না চাইলে তাকে লাঞ্ছিত করছেন বাসের শ্রমিকরা। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও নেওয়া হচ্ছে বেশি ভাড়া।

বক্তারা বলেন, চরকাউয়া থেকে সাতটি রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসের ফিটনেস নেই। বেশিরভাগ চালকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। অবিলম্বে বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া নেওয়ার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, দিনের পর দিন অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী নাগরিকরা নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে চরকাউয়া থেকে সাতটি রুটে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ করাসহ ছয় দফা দাবি আদায়ের জন্য মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিআরটিএর বিভাগীয় পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

ছয় দফাগুলো হলো- চরকাউয়া বাস মালিক সমিতি কর্তৃক নেওয়া বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেওয়া, যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা, নিয়মিত যাত্রীদের কম ভাড়া নেওয়া, লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকদের দ্বারা বাস চালানো এবং ফিটনেসবিহীন বাস অপসারণ।