তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিসহ ৬ দফা দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে কেন্দ্র করে সোমবার রংপুর প্রেসক্লাবের সমনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় তিস্তা চুক্তিসহ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান পরিষদের নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশের ১১৫ কিলোমিটারে বসবাসরত ২ কোটি মানুষের জীবনে মহাদুর্যোগ নেমে এসেছে। এর কারণ হিসেবে আন্তঃদেশীয় ব্যবস্থাপনায় তিস্তা অববাহিকার ভারত-বাংলাদেশ মিলে নদী ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে না পারা, দেশীয় ব্যবস্থাপনায় নদী খনন, ভাঙন রোধে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের অভাবকেই দায়ী করছেন তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, তিস্তা অববাহিকতার রংপুর অঞ্চলে খরা, বন্যা ও নদী ভাঙনে ঘরে ঘরে আহাজারি চলছে। ভাঙনের কারণে এখন নদীর প্রস্থ কোথাও কোথাও ১০-১২ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। ২৩৫ বছরের নদী তিস্তার জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি কোনো পরিচর্যাই করা হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের। তিস্তার নাব্যতা ও গভীরতা নেই উল্লেখ করে তিস্তা চুক্তি সই এবং নিজস্ব অর্থায়নে বিজ্ঞানসম্মতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন নদী আন্দোলনের নেতারা।

সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান প্রমুখ।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে ঘিরে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের আশায় রয়েছেন নদী পাড়ের মানুষ।
লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে মাত্র দুই এক মাস নদীতে পানি থাকে। বর্ষায় তিস্তার ঢল সামাল দিতে ভারত তাদের ব্যারেজের গেট খুলে দিলে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়ে তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যায়। প্রবল ভাঙনে প্রতি বছরই ভিটে মাটি হারা হয় হাজারো মানুষ।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামের প্রায় শতবর্ষী ফয়জার বলেন, তিনি এ যাবতকালে তিস্তার অনেক রূপ দেখেছেন। একসময়ের খরস্রোতা তিস্তা এখন কংকাল। আবার বর্ষায় ভারত পানি ছাড়লেই তাদের সর্বনাশ।
মহিষখোচা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম ও প্রভাষক আতোয়ার রহমান বলেন, তিস্তা বহমান হলে দু'দেশের জন্যই ভালো। তাঁদের আশা, এবার তিস্তার একটা সুরাহা হবে।
সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের সমাজকর্মী ও নাট্যকার মাখন লাল দাস জানান, নদী হারিয়ে যাচ্ছে। তাই তিস্তা পাড়ের বিখ্যাত ভাওইয়া গান 'ওকি গাড়িয়াল ভাই... এখন আর আগের মতো মানুষের মুখে নেই।