বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের শাহাদাতবরণের স্থানে তাঁর স্মৃতি রক্ষায় কবি ও গবেষক সাইদ হাফিজ নিজের 'জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক' নিলামে বিক্রি করতে চান। সোমবার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের শাহাদাতবরণের দিনে ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্বর্ণপদক বিক্রির এ ঘোষণা দেন তিনি। এদিকে এই ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পরে তিনি স্ট্যাটাসটি তুলে নিয়েছেন।

সাইদ হাফিজ জানান, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আটুলিয়া গ্রামে (বইপুস্তকে আছে গোয়ালহাটি) রণাঙ্গনে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন নূর মোহাম্মদ। তাঁর মরদেহ সীমান্তবর্তী শার্শার কাশিপুরে দাফন করা হয়। তাঁর কবর সংরক্ষণ করা হলেও রণাঙ্গনের সেই স্থানটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানটি সংরক্ষণের জন্য ১০ বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু কোনো ফল না পেয়ে পদক বিক্রির স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

স্ট্যাটাসে সাইদ হাফিজ উল্লেখ করেছেন, 'জাতীয় স্বর্ণপদক বিক্রি করতে চাই। স্বাধীনতার ৫১ বছর অতিবাহিত হলেও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের মৃত্যুস্থানে একটি স্মৃতিফলকও বসানো হয়নি। আমাকে দেওয়া জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক-২০১৮ উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে ক্ষুদ্র প্রাপ্তি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
কবি সাইদ হাফিজ জানান, এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁকে ফোন করে বলেছেন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ আটুলিয়ায় নয়, গোয়ালহাটিতে শহীদ হয়েছিলেন। সেখানে স্মৃতিফলক আছে। আমাকে এটি নিয়ে সর্তক করেছেন বিধায় স্ট্যাটাসটি তুলে নিতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, নূর মোহাম্মদ যে স্থানে শাহাদাতবরণ করেন, সেটি আটুলিয়ার মধ্যে এবং তার পাশেই গোয়ালহাটি। এই দু'টি স্থানের কোথাও স্মৃতি রক্ষার্থে কোনো কিছু নেই।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল হক দাবি করেছেন, নূর মোহাম্মদ শেখ গোয়ালহাটিতে শাহাদৎ বরণ করেন। সেখানে হয়তো বড় কিছু নেই, কিন্তু স্মৃতিফলক আছে। সেটি অবহেলিত নয়। এ কারণে সাইদ হাফিজকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিষয় : বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতি রক্ষা পদক বিক্রির স্ট্যাটাস

মন্তব্য করুন