অভিযানে গিয়ে ব্যবসায়ীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্ট্রাইকিং ফোর্সের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে সোমবার সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বেলায়েত হোসেন নামে ওই ব্যবসায়ী।

নগরের পোর্ট কানেক্টিং সড়কের উত্তর সরাইপাড়া এলাকায় মেসার্স ওয়ালী কার কালেকশন নামে একটি গাড়ির শো রুম রয়েছে তাঁর। গত ২৯ আগস্ট দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অভিযানের নেতৃত্বে থাকা মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেমের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে মেয়রের একান্ত সচিব বলেছেন, ফুটপাতে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবৈধ র‌্যাম্প সরাতে গেলে তিনি বাধা দেন। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।

ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন সমকালকে জানান, কোনো নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ অভিযানে যায় স্ট্রাইকিং ফোর্স। তাঁর গাড়ির শোরুমের সামনে সড়ক থেকে গাড়ি ওঠানোর লোহার একটি অস্থায়ী র‌্যাম্প রয়েছে। সেটি শুধু গাড়ি ওঠানোর সময় ব্যবহার করা হয়। পরে আবার গুটিয়ে রাখা হয়। অভিযানে থাকা লোকজন সেটি সরিয়ে ফেলতে বলেন। তিনি এটি ফুটপাতে নয়, নিজের জায়গায় রাখেন বলে জানান। তবুও তাঁরা কোনো কথা না শুনে বুলডোজার দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে রাখেন। নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করেন। তিনি করদাতা নাগরিক পরিচয় দিয়ে সেটি সরিয়ে নিতে এক দিনের সময় চান। এ সময় মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম তাঁর উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে গাড়িতে উঠিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যদের। স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যরা তাঁকে শোরুম থেকে টেনেহিঁচড়ে নিচে ফেলে দেন। এ সময় তার পা মচকে যায়। পায়ের মাংসপেশি থেঁতলে যায়।

এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন জানিয়ে ব্যবসায়ী বেলায়েত বলেন, ৩১ আগস্ট মেয়রের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার ভিডিও দেখিয়েছি। পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়েছি। লিখিত অভিযোগও দিয়েছি। জড়িতদের বিচার করা না হলে আইনের আশ্রয় নেব।

অভিযোগের বিষয়ে মেয়রের একান্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা আবুল হাশেম বলেন, আমরা যখন উচ্ছেদ অভিযানে যাই, প্রথমে তিনি খুব ভালো ব্যবহার করেন। আমরা যখন র‌্যাম্পটি তুলে নিচ্ছিলাম, তখন তিনি আমাদের কাজে বাধা দেন। নিজেকে বারভিডার মেম্বার, সিআইপি- এসব পরিচয় দিয়ে খুবই বাজে আচরণ করেন। তখন নিরাপত্তাকর্মীদের বলেছি, তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে। নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি লোহার স্ট্যাকচারের ওপর পড়ে পায়ে ব্যথা পান। আবুল হাশেমের দাবি, র‌্যাম্পটি অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছিল। এতে ফুটপাতে চলাচলে বাধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন পথচারীরা।