শেরপুরের নালিতাবাড়ীর একটি জঙ্গল থেকে নাছিমা বেগমের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ১১ দিন পর দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৫০ টাকা দিয়ে তাকে বাড়ির পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায় গ্রেপ্তার নজরুল ইসলাম। সেখানে অলংকার ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে হেলিম নামে এক ব্যক্তি। একপর্যায়ে দু'জন মিলে নাছিমাকে হত্যা করে লাশ জঙ্গলের ভেতর মাটিচাপা দেয়।

২০ আগস্ট বিকেলে পূর্ব মানিককুড়া গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন গ্রামপুলিশ আমির আলীর স্ত্রী নাছিমা বেগম (৩৫)। ২৩ আগস্ট থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ২৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে নাছিমার মা বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে বিশিগিরিপাড়া গ্রামের জঙ্গলে একঝাঁক কাকের ডাকাডাকির সূত্র ধরে মেয়ের লাশ খুঁজে পান। একই সময়ে হেলিম মিয়া ওরফে ইলিমকে (৪০) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে সন্দেহভাজন নজরুল ইসলাম (৩০) ততক্ষণে পালিয়ে যায়।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০ আগস্ট বিকেলে জঙ্গলের পাশে নজরুল ইসলামের বাড়ি গিয়ে ৫০ টাকা ধার চান নাছিমা। তখন বাড়িতে ছিলেন না নজরুলের স্ত্রী। ৫০ টাকা ধার দিয়ে নাছিমাকে জঙ্গলে ডেকে নিয়ে যায় নজরুল। কিছু সময় পর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসছিল তারা। তাদের দেখে ফেলে ভয় দেখায় হেলিম ওরফে ইলিম।

একপর্যায়ে নাছিমাকে টেনে ঝোপে নিয়ে ভয় দেখিয়ে সঙ্গে থাকা অলংকার খুলে নেওয়ার চেষ্টা করে সে। এতে বাধা দিলে নাছিমার গলায় থাকা ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে নজরুলকে টেনে ধরতে বলে হেলিম। পরে দুজন মিলে দু'পাশে টেনে ধরলে নাছিমা মাটিতে পড়ে যান। এ সময় হেলিম নাছিমার বুকে কয়েকটি লাথি দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এরপর হেলিমের কথামতো নজরুল বাড়ি থেকে কোদাল নিয়ে প্রথমে একটি গর্ত করার চেষ্টা করে। হেলিম তা নিষেধ করে ঝোপের ভেতর আরেকটি গর্ত করে। এরপর নাছিমাকে নিয়ে মাটিচাপা দেয় তারা। সঙ্গে থাকা অলংকার খুলে নেয় হেলিম।

গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার বংশাল এলাকা থেকে আসামি নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জবানবন্দি নিয়ে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে দুজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক।

সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) আফরোজা নাজনীন জানান, অপরাধ স্বীকার করে পুলিশ ও আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি।