মায়ের সামনে কিশোরী মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যুবদল কর্মী জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ১৭ বছর পলাতক ছিলেন।

রোববার রাতে সোনাগাজী মডেল থানার উপরিদর্শক মাহবুব আলম সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ তাঁকে ফেনী শহরের মিজান রোড থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

থানার ওসি খালেদ হোসেন দাইয়ান বলেন, মৃত্যুদণ্ডের পর গ্রেপ্তার এড়াতে জাহাঙ্গীর ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করেন। সর্বশেষ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ২০০৩ সালে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দুই বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

জাহাঙ্গীরের স্বজনরা জানান, আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আইনি পরামর্শ নিতে গতকাল সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীর তার ভগ্নিপতিকে নিয়ে এক আইনজীবীর চেম্বারে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

২০০৩ সালে সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী কিশোরী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার জন্য কিশোরীর মা স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। পর দিন কিশোরীর মা বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার ১৯ বছর পর গত ১৪ জুলাই ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল জাহাঙ্গীরসহ ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

জাহাঙ্গীরের গ্রেপ্তারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করে ওই কিশোরীর মা বলেন, তাদের ভয়ে ১৯টি বছর পরিবার নিয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বসবাস করছেন। তিনি অন্য দুই আসামিকেও গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।