চট্টগ্রামের ফেনী কারাগারের ঢুকে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের সেলে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন তল্লাশি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাবুলের আইনজীবী। এ অভিযোগ এনে আদালতে আসামি বাবুলের নিরাপত্তা চেয়ে পৃথক একটি পিটিশনও দাখিল করেছেন এবং এ ঘটনায় তদন্তও চেয়ে আবেদন করেছেন। 

সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালতে বাবুল আক্তারের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ আবেদনটি দাখিল করেন। যদিও ফেনী জেলের কর্মকর্তারা এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে জানিয়েছেন।

ফেনী জেলা কারাগারের সুপার মো. আনোয়ারুল করিম বলেন, ফেনী মডেল থানার ওসি অন্য একটি মামলার তথ্য সংগ্রহে কারাগারের অফিস কক্ষে এসেছিলেন। তিনি কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করার কোন প্রশ্নই উঠে না। আমার চাকরি জীবনে প্রথম শুনলাম ওসি কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। যারা এ অভিযোগ করছেন তাদের উদ্দেশ্য খারাপ। এটি সর্ম্পূণ ভুয়া খবর।

বাবুলের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর গত শনিবার দুপুর ১২টায় ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ফেনী কারাগারে প্রবেশ করেন। কারাগারে বাবুল আক্তারের কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালান তিনি। কারাগারে তার প্রবেশের চিত্র সিসিটিভি ক্যামেরা যাচাই করলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

তিনি বলেন, জেল কোড অনুসারে থানায় কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা কোনভাবেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং আদালতের লিখিত অনুমতি ছাড়া জেলখানায় প্রবেশ করতে পারেন না। এ ঘটনার তদন্ত ও বাবুল আক্তারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ফেনী কারাগারের সুপারকে নির্দেশ প্রদানের আবেদন করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে আদেশ দেবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে বাবুলের আইনজীবী মুরাদ বলেন, কারাগারের সোর্সের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হয়েছি ওসি কারাগারের সেলে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছেন। কারাগারের ভেতর কয়েদিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর বাবুল আক্তারের পক্ষে পিবিআইয়ের ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। শুনানি শেষে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য দিন রেখেছেন আদালত। আজ নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনের উপরও শুনানি হয়েছে। উভয় আবেদনের উপর আদেশ ১৯ সেপ্টেম্বর দেবেন আদালত।

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তার বর্তমানে ফেনী কারাগারের সেলে বন্দি রয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি চট্টগ্রামে মিতু মামলায় হাজিরা দিতে আসেন। ২০১৬ সালে খুন হন মিতু।