পদ্মা সেতু চালু এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে তীব্র যাত্রী সংকট চলছে। প্রতিদিন লোকসান হওয়ায় এই রুটে চলাচলকারী বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর মালিকরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। কিন্তু যাত্রীর সংখ্য ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ছয়টি লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ঢাকা প্রান্ত থেকে তিনটি লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশে এবং বরিশাল প্রান্ত থেকে তিনটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে যাত্রী পরিবহন করবে।

মঙ্গলবার ঢাকায় লঞ্চ মালিকদের সংগঠন অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন (যাপ) সংস্থার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, এই রুটে চলাচলকারী ১৮টি লঞ্চের ১০ জন মালিক সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত মেনে চলতে যৌথ সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তাঁরা বুধবার থেকে ছয়টি গ্রুপে ভাগ হয়ে রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ চালাবেন। সভায় নেওয়া অন্য সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে- ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চ সকাল ৫টার মধ্যে বরিশাল নদীবন্দরে পৌঁছবে এবং বরিশাল থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চ ঢাকায় পৌঁছাবে সকাল ৬টার মধ্যে। পথে এ রুটের কোনো লঞ্চ অন্য লঞ্চকে ওভারটেক করতে পারবে না।
যাপ সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের (বীরবিক্রম) সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জমান, ঢাকা নদীবন্দর থেকে নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক মো. মামুন অর রশিদ, সুন্দরবন নেভিগেশনের স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু, সালমা শিপিং করপোরেশনের মনজুরুল হক ফেরদৌসসহ লঞ্চ মালিকরা।
সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রী সংকট শুরু হলেও ভাড়া কমিয়ে কিছুটা লোকসান কমানো সম্ভব ছিল। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর লঞ্চ মালিকদের চূড়ান্ত ক্ষতি হয়েছে। ভাড়া বাড়ানোর কারণে কেবিনের যাত্রী ২০-৩০ শতাংশের বেশি পাওয়া যায় না। প্রতি ট্রিপে লোকসান দিতে হয় ২-৩ লাখ টাকা।
পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী সংকটে ঢাকা-বরিশাল রুটে গ্রিন লাইনের দিবা সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। শুধু নৌপথ নয়, এই সেতু চালুর পর বরিশাল-ঢাকা আকাশপথেও যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। নভোএয়ার বন্ধ করে দিয়েছে এ রুটে তাদের ফ্লাইট। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং বাংলাদেশ বিমান ফ্লাইট কমিয়েছে।