সুনামগঞ্জে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে বিএনপির চার নেতা প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে বগুড়ায় আওয়ামী লীগের নেতারাই একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে লড়বেন।

বৃহস্পতিবার ছিল ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। আগামী রোববার মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর। আগামী ১৭ অক্টোবর ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে।

সুনামগঞ্জে সাধারণ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ৪২ প্রার্থীর ৩৬ জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত এবং চারজন বিএনপি করেন। এক নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র দাখিল করা চন্দন খান ধর্মপাশা উপজেলার যুবদল নেতা।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বিএনপি সমর্থক। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আলী আমজাদ তালুকদার শাল্লার আটগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোহেল মিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক।

জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেছেন, বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। কেউ প্রার্থী হলে এটা তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত।

এদিকে বগুড়ায় বিএনপি অংশ না নিলেও প্রতিটি পদে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বদ্বিতা করতে দলের সাবেক এক নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সদস্য পদেও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারাই।

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সমর্থনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যন ডা. মকবুল হোসেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ পৌর কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান আখন্দ।

পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র জমাদানকারী সবাই সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক। তবে আদমদীঘি উপজেলা নিয়ে গঠিত ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দল সমর্থিত সাধারণ সদস্য প্রার্থী মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী মঞ্জুয়ারা বেগমকে চ্যালেঞ্জ করে দলীয় অন্য কোনো নেতা মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। একইভাবে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ ফকিরও একক প্রার্থী। সংরক্ষিত সদস্য পদেও একেকটি আসনে ক্ষমতাসীন দলের ৪ থেকে ৬ জন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

কুমিল্লায় বিনা ভোটে জয়ের পথে পাঁচ প্রার্থী :কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে ৪ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে একজন সদস্য বিনা ভোটে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন। এসব ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় বিধি মোতাবেক নির্বাচন হবে না।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, একজন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৯, ১২, ১৩ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড (সদর দক্ষিণ) থেকে। এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তানজিনা আক্তারও একমাত্র প্রার্থী। নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী না থাকলেও এবং একমাত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা হলে তাঁকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

সংশোধন :নেত্রকোনায় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন অসীত সরকার সজল। তবে শুক্রবার সমকালে ভুলবশত ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হিসেবে আসমা সুলতানা আশরাফের নাম ছাপা হয়েছে। বস্তুত আসমা জাতীয় পার্টির প্রার্থী।
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সমকাল প্রতিবেদক, ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিরা]