ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্যের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আইয়ুব আলীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালামের কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদের ব্যনারে চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ও স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পিএস আইয়ুব অভিযোগ করেছেন। 

অন্যদিকে উপাচার্যের পিএসকে মারধর ও কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ও স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা। একইসঙ্গে তারা তাদের চাকরি না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগ বন্ধ রাখারও দাবি করেন। 

জানা যায়, অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদের ব্যনারে চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ও স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা আজ দুপুর থেকে উপাচার্যের পিএসের রুমে অবস্থান নেয়। পিএস উপাচার্যের বাসভবন থেকে দপ্তরে ফিরলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা তার কক্ষে ঢুকে টেবিল ছুড়ে মারেন। পরে তাকে চড়-থাপ্পড় দিতে থাকেন। এ সময় পিএস-এর টেবিলে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এলোমেলো হয়ে মেঝেতে পড়ে পানিতে ভিজে যায়। এ ছাড়া দুটি টেবিল ভাঙচুর করা হয়। এ সময় উপাচার্যের অপর পিএস মিল্টনকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন তারা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আইয়ুব আলী সমকালকে বলেন, ‘আমি অফিসে ঢোকা মাত্রই টিটো মিজান, রাসেল জোয়ার্দারসহ ১৫-২০ জন আচমকা আমার রুমে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। পরে আমাকে শারীরিকভবে লাঞ্ছিত করে। আমি কখনও বিএনপি বা ছাত্রদল করিনি। আমি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস। সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

চাকরিপ্রত্যাশীদের নেতা টিটো মিজান বলেন, ‘আমরা পিএসকে মারধর করিনি। ভাঙচুরও করিনি। কে বা কারা করেছে তা জানি না। তবে আমরা তার কাছে আমাদের বন্ধ থাকা ফাইলগুলো চালুর কথা বলতে গিয়েছিলাম। এ সময় উনি ছাত্রলীগ নিয়ে বাজে মন্তব্য করায় আমরা সাবেকরা উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম।’

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির করার পরিবেশ থাকবে না। যা ঘটেছে খুবই দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এটিএম এমদাদুল আলম বলেন, ‘আজ তারা পিএসকে মারধর করে রুম ভাঙচুর করেছে। কালকে অন্যজনের গায়ে হাত দিবে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘এ ঘটনা যারাই ঘটিয়েছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’